মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জ্বালানি সংকট: রাজধানীর ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকায় কর্মীরা অলস
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এই প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে, যেখানে রাজধানী ঢাকার বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পাম্প বন্ধ থাকার দৃশ্য চোখে পড়েছে, যেখানে কর্মচারীরা সরবরাহ না থাকায় তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছেন।
ফিলিং স্টেশনে তেলের অভাবে কর্মীদের অলস সময়
সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর মগবাজারের মহিন মোটরস ফিলিং স্টেশনটি সম্পূর্ণ বন্ধ দেখা গেছে। এই সময়ে ফিলিং স্টেশনের সামনে কয়েকটি মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার তেলের জন্য অপেক্ষা করছিল। ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী নুর আলম জানান, গত বৃহস্পতিবার তারা তেল পেয়েছিলেন এবং শনিবার পর্যন্ত তা বিক্রি করেছেন। তবে গত দুই দিন ডিপো থেকে কোনো তেল না পাওয়ায় বিক্রি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, "আজ পাম্পের তেলের গাড়ি ডিপোতে পাঠানো হয়েছে, কিন্তু তেল পাওয়া যাবে কি না, তা নিশ্চিত নই।"
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাব ও আতঙ্কের কেনাকাটা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করার পর ইরান পাল্টা জবাব দিচ্ছে। এই যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাসের উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে, সরবরাহ কঠিন হয়ে পড়ছে এবং দাম বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশেও আতঙ্কের কেনাকাটা শুরু হয়েছে, যেখানে মানুষ দীর্ঘ লাইন ধরে বেশি বেশি জ্বালানি তেল কিনছেন। এতে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে গেছে, যা সরকারের মজুত কমিয়ে দিচ্ছে এবং সংকটকে আরও তীব্র করছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশন বন্ধ
বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর শেওড়াপাড়া থেকে আগারগাঁওয়ের তালতলায় আসার সময় ওই এলাকার দুটি ফিলিং স্টেশন বন্ধ দেখা গেছে। বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর পরীবাগের পূর্বাচল ট্রেডার্স নামে ফিলিং স্টেশনের সামনে লেখা দেখা যায়, "অকটেন, পেট্রোল নেই।" গতকালও এই পাম্পটি বন্ধ ছিল এবং সামনের ব্যানারে লেখা ছিল—"আজকে পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে আমাদের পাম্পে তেল সরবরাহ না করার কারণে সম্মানিত ক্রেতাসাধারণকে তেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।"
এই পাম্পের ক্যাশিয়ার দুলাল বলেন, "ডিপো থেকে আমরা আনতে পারি না, ডিপো আমাদের তেল দেয় নাই, যার জন্য আমরা বিক্রি করতে পারি নাই।" তবে তিনি জানান, আজ তারা তেল পেয়েছেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যে গাড়ি আসবে বলে আশা করছেন।
তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার চিত্র
দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে রাজধানীর মতিঝিলের কারিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় পাম্পটি বন্ধ এবং সামনে লেখা রয়েছে, তেল নেই। পাম্পটির মালিক আবদুস সালাম জানান, ডিপো থেকে পাওয়া তেল রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিক্রি করে শেষ করেছেন। আজকেও তেলের জন্য ডিপোতে গাড়ি গেছে এবং বেলা দুইটা থেকে আড়াইটার দিকে তেল এলে বিক্রি শুরু করতে পারবেন। তিনি বলেন, আগে প্রতিদিন ডিপো থেকে ৩০ হাজার লিটার তেল পেলেও গত দুই দিন মাত্র ১৩ হাজার লিটার তেল পেয়েছেন, যা সরবরাহ সংকটের তীব্রতা নির্দেশ করে।
দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড়ে অবস্থিত বিনিময় ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পটিতে তেল নেই এবং সামনে প্রতিবন্ধকতা দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। পাম্পটির ব্যবস্থাপক জিয়ারুল ইসলাম বলেন, "গতকাল শুধু ডিজেল পেয়েছি, অকটেন পাইনি। পরশু দিন অকটেন পেয়েছিলাম, সেটি গতকাল বিকেল পর্যন্ত বিক্রি করেছি। আজকে এখন পর্যন্ত তেল আসেনি।"
কিছু ফিলিং স্টেশনে বিক্রি অব্যাহত
তবে কাছাকাছি সময়ে রাজধানীর পরীবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিসিং সেন্টার ফিলিং স্টেশন এবং রমনা ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি করতে দেখা গেছে। এসব ফিলিং স্টেশনের সামনে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ লাইন ছিল, যা ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ও চাহিদার মাত্রা প্রকাশ করে। এই পরিস্থিতি জ্বালানি খাতে চলমান সংকটের গভীরতা তুলে ধরছে এবং সরকারি হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করছে।
