ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতে তেলের দাম বাড়ায় থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের জ্বালানি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ
তেল সংকটে থাইল্যান্ড-ভিয়েতনামের জ্বালানি সাশ্রয়ী উদ্যোগ

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্থির, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের জ্বালানি সাশ্রয়ী উদ্যোগ

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাত ক্রমশ তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তেলের দামে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় এখন থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম সরকারি পর্যায়ে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

থাইল্যান্ডের জ্বালানি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, থাইল্যান্ড সরকার জ্বালানি সংকটের প্রভাব কমাতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে। সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মীদের জন্য রিমোট ওয়ার্ক বা বাসা থেকে কাজ করার সুযোগ প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে অফিসে যাতায়াতের জন্য জ্বালানি খরচ কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

এছাড়াও, সরকারি অফিসগুলোতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নির্ধারণের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, জ্বালানি ব্যয় আরও কমানোর লক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর এড়িয়ে চলারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভিয়েতনামের জ্বালানি সংকট মোকাবিলার কৌশল

প্রতিবেশী দেশ ভিয়েতনামও একই ধরনের জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হয়েছে এবং তা মোকাবিলায় নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দেশটির সরকার জ্বালানি ঘাটতি কমানো এবং অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমদানি করা বেশ কিছু পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।

একই সঙ্গে ভিয়েতনামের বিভিন্ন কোম্পানিকে তাদের কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাজধানী হ্যানয় থেকে জনগণকে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার সীমিত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহার, সাইকেল চালানো বা কারপুলিংয়ের মতো বিকল্প পদ্ধতি বেছে নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম তাদের জ্বালানি খরচ কমিয়ে আনার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করছে। বৈশ্বিক তেল বাজারের অস্থিরতা চলমান থাকলে অন্যান্য দেশও অনুরূপ পদক্ষেপ নিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।