জ্বালানি তেল সংকটে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন, রাইড শেয়ারকারীদের জন্য বিশেষ সীমা
জ্বালানি তেল সংকটে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন

জ্বালানি তেল সংকটে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন, সরকারের নতুন নির্দেশনা

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার জ্বালানি তেলের সরবরাহ বেশি দিন ধরে রাখতে সীমা বেঁধে দিয়েছে। গতকাল সোমবার বিজয় সরণি এলাকার ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে, যা বর্তমান পরিস্থিতির তীব্রতা তুলে ধরছে।

মোটরসাইকেল চালকদের জন্য সীমিত সরবরাহ

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, মোটরসাইকেল চালকরা এখন দিনে মাত্র ২০০ টাকার জ্বালানি তেল নিতে পারছেন। তবে, মহানগর এলাকায় রাইড শেয়ার সেবায় নিয়োজিত মোটরসাইকেলের জন্য এই সীমা বাড়িয়ে দিনে সর্বোচ্চ ৫ লিটার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিপিসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাইড শেয়ারকারী মোটরসাইকেল চালকরা দিনে সর্বোচ্চ ৫ লিটার অকটেন বা পেট্রল নিতে পারবেন। এছাড়া, তেলের ধরন ও পরিমাণ উল্লেখ করে রাইড শেয়ারকারী চালকদের বিলের রশিদ নিতে হবে এবং প্রতিবার তেল কেনার সময় আগের রশিদ জমা দিতে হবে। মোটরসাইকেলের নিবন্ধন নম্বর ও চালকের তথ্য রাইড শেয়ারিং অ্যাপসের সাথে মিলিয়ে তেল সরবরাহ করতে হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিভিন্ন যানবাহনের জন্য আলাদা সীমা

গত শুক্রবার বিপিসি মোটরসাইকেলের জন্য দিনে ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল, যা এখন রাইড শেয়ারকারীদের জন্য সংশোধন করা হয়েছে। অন্যান্য যানবাহনের জন্যও আলাদা সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য দিনে ১০ লিটার তেল নেওয়া যাবে।
  • স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল (এসইউভি) ও মাইক্রোবাস দিনে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল পাবে।
  • পিকআপ বা লোকাল বাস দিনে ডিজেল নিতে পারবে ৭০ থেকে ৮০ লিটার।
  • দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল নিতে পারবে।

দাম বাড়ানো আইনগত অপরাধ

বিপিসি আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, সরকার নির্ধারিত দামে জ্বালানি তেল বিক্রির বাধ্যবাধকতা আছে এবং সংকটের অজুহাতে দাম বাড়ানো আইনগত অপরাধ। দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টা

দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদেশ থেকে আমদানি কার্যক্রম নির্ধারিত রয়েছে বলে বিপিসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। নিয়মিতভাবে চালান দেশে আনা হচ্ছে এবং ডিলারদের মাধ্যমে সাময়িকভাবে প্রধান স্থাপনা থেকে সারা দেশের সব ডিপোতে রেল ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে তেল পাঠানো হচ্ছে। এই ব্যবস্থা জ্বালানি সংকট প্রশমনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের সীমিত সরবরাহ ও নিয়ন্ত্রিত বিতরণ ব্যবস্থা দেশের অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপগুলো এই সংকট কাটিয়ে উঠতে কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলে দেবে।