আইএমএফের নতুন ঋণ নিয়ে আলোচনা শুরু কাল, লক্ষ্য ৪০০-৪৫০ কোটি ডলার
আইএমএফের নতুন ঋণ নিয়ে আলোচনা শুরু কাল

আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচির জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু হচ্ছে আগামীকাল। আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং দল বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে বৈঠকে বসবে।

আলোচনার লক্ষ্য ও প্রেক্ষাপট

এ আলোচনার উদ্দেশ্য অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী জানুয়ারি থেকে নতুন ঋণ কর্মসূচি শুরু হতে পারে। সরকার তিন বছরের জন্য ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ পাওয়ার আশা করছে।

সরকারের পরিকল্পনা ও চিঠি

এই অর্থ সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ সামাল দেওয়া ও সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ৯ জুন আইএমএফকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেন অর্থমন্ত্রী। চিঠিতে জানানো হয়, পূর্ববর্তী ঋণ কর্মসূচির সময়ের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বদলে গেছে; রাজনৈতিক অর্থনীতির পরিবর্তন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও নতুন চ্যালেঞ্জের কারণে কিছু সংস্কার নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে সরকার ধাপে ধাপে সংস্কার বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আলোচনার এজেন্ডা

আলোচনায় প্রায় পুরো অর্থনীতি সূচক নিয়ে আলোচনা হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে করছাড়ের যৌক্তিকতা, রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতা, আয়কর ও ভ্যাট সংস্কার, কর-ব্য�় সংস্কার ও আর্থিক খাত সংস্কারের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ব্যাংক খাত থাকবে কেন্দ্রবিন্দুতে—সুশাসন জোরদার, খেলাপি ঋণ কমানো, ব্যাংক পুনর্গঠন ও অবসায়ন, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন ও ঝুঁকিভিত্তিক তদারকির অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে আইএমএফ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যান্য বিষয়

রাজস্ব আদায় কম হওয়া ও সরকারি ঋণ বেড়ে যাওয়ার কারণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি বৃদ্ধি, বিদ্যুতের দাম সমন্বয়, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা, ফ্যামিলি কার্ডসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরকারি ব্যয় নিয়েও আলোচনা হবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রার বাস্তবতা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতা ও এডিপির অর্থের দক্ষতা নিয়েও জানতে চাইবে আইএমএফ।

ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা

অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি কেবল আনুষ্ঠানিক সফর নয়, বরং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। প্রতিনিধিদলের মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে পূর্ণাঙ্গ ঋণ আলোচনা শুরু হবে, যেখানে ঋণের পরিমাণ, ছাড়ের সময়সূচি ও সংস্কারের শর্ত চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে, অগ্রগতি সন্তোষজনক না হলে আলোচনা দীর্ঘায়িত বা শর্ত কঠোর হতে পারে।