সুনামগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ২৬৫ মিমি বৃষ্টি, সাময়িক বন্যার শঙ্কা
সুনামগঞ্জে ২৬৫ মিমি বৃষ্টি, সাময়িক বন্যার শঙ্কা

সুনামগঞ্জে দুই দিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এক দিনে এটি জেলায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি। এর আগে ২৮ এপ্রিল এক দিনে ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছিল।

নদী ও হাওরে পানির স্তর বৃদ্ধি

সুনামগঞ্জের হাওরগুলো এখন আষাঢ় মাসের পানিতে টইটম্বুর। পানি বাড়ছে নদীতেও। নামছে উজানের পাহাড়ি ঢল। ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢল নামা অব্যাহত থাকলে সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি বেড়েছে ৫১ সেন্টিমিটার। এ সময়ে বৃষ্টি হয়েছে ২৬৫ মিলিমিটার। বৃষ্টি ও উজানের ঢলে জেলার সব নদ-নদী ও হাওরে পানি বেড়েছে। আজ সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর এলাকায় সুরমা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৭ দশমিক ২০ মিটার। গতকাল একই সময়ে তা ছিল ৬ দশমিক ৬৯ মিটারে। এখানে পানির বিপৎসীমা ৭ দশমিক ৮০ মিটার। এতে নদীতে পানি বাড়লেও এখনো বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া জেলার ছাতক উপজেলায় সুরমা নদী, তাহিরপুর উপজেলার জাদুকাটা ও পাটলাই, জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা, দোয়ারাবাজারের খাসিয়ামারা, সদর উপজেলার চলতি নদে পানি বেড়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সম্ভাব্য প্রভাব

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার ও আগামীকাল শুক্রবার সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টি হবে। অতি ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নদীর সঙ্গে জেলার হাওরগুলোতেও পানি বাড়ছে। গত দুই দিনে জেলায় বৃষ্টি হয়েছে ৩৬৫ মিলিমিটার। একই সময়ে উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মোসিনরাম এলাকায় ভারী বৃষ্টি হয়েছে। এতে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামছে সুনামগঞ্জে। ইতিমধ্যে সীমান্তবর্তী সদর, ছাতক, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ইব্রাহীমপুর গ্রামের আকরাম উদ্দিন বলেন, তাঁদের এলাকায় সুরমা নদীর পানি বেড়েছে। তবে এখনো এলাকার কোথাও পানি ঢোকেনি। টানা বৃষ্টিতে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।

স্থানীয়দের মতামত ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় পলাশ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য আবদুল গণী আনসারী বলেন, ‘এখন হাওরে যে পানি আছে, সেটাকে আমরা স্বাভাবিক বর্ষা বলি। বর্ষায় হাওর দিয়ে মানুষের যাতায়াত ও মাছের উৎপাদন বাড়াতে এই পানির দরকার আছে। তবে ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে। এখন বন্যা না হলেই হলো।’

পাউবোর সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর বিভাগ-২) মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘যেহেতু সুনামগঞ্জে ও উজানে আরও দুই দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে, তাই পানি আরও বাড়বে। এতে জেলায় সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।’