যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। আর্জেন্টিনার দৈনিক লা নাসিওনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। তদন্তে এএফএ সভাপতি ক্লাউদিও তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে কীভাবে তহবিল স্থানান্তর করেছে এবং এতে কোনো অপরাধমূলক কার্যকলাপ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের প্রেক্ষাপট
এই তদন্ত এমন সময়ে শুরু হলো যখন আর্জেন্টিনার ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর রাউন্ড অব সিক্সটিনে মিশরের বিরুদ্ধে ৩-২ গোলে বিতর্কিত জয়ের পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। ম্যাচটিতে রেফারির বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
ট্যুরপ্রোডএন্টার এলএলসি-র ভূমিকা
লা নাসিওনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্যুরপ্রোডএন্টার এলএলসি-ও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি এএফএ-র বিদেশি আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করে বলে অভিযোগ। সংবাদপত্রটি দাবি করেছে, তারা যে নথি পর্যালোচনা করেছে তাতে দেখা গেছে, ট্যুরপ্রোডএন্টার এলএলসি যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান—সিটিব্যাংক, সিনোভাস, ব্যাংক অব আমেরিকা, জেপি মরগান চেজ এবং পিএনসি ব্যাংক—এর অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এএফএ-র কমপক্ষে ২৬ কোটি মার্কিন ডলার রাজস্ব পরিচালনা করেছে।
অনিয়মের অভিযোগ
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, তহবিলের একটি অংশ চিহ্নিতযোগ্য পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হলেও প্রায় ৫.৭ কোটি ডলার বিভিন্ন কোম্পানি এবং সুবিধাভোগীর কাছে কোনো আপাত অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা ছাড়াই স্থানান্তর করা হয়েছে। আরও দাবি করা হয়েছে, কয়েক কোটি ডলার এমন কোম্পানিতে পাঠানো হয়েছে যারা কোনো শনাক্তযোগ্য সেবা প্রদান করে না এবং যাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিরা সরকারি নথি অনুযায়ী সামাজিক কল্যাণ সুবিধা গ্রহণ করেন এবং বারিলোচে বা বুয়েনস আইরেসে বসবাস করেন।
এফবিআই-এর নীরবতা
এফবিআই তদন্ত সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
তাপিয়ার পূর্ববর্তী আইনি জটিলতা
ক্লাউদিও তাপিয়া এর আগেও আইনি ও রাজনৈতিক তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন। গত মার্চে তিনি কর ফাঁকির অভিযোগে অভিযুক্ত হন এবং আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের সঙ্গে ফুটবল ক্লাবের মালিকানা কাঠামো নিয়ে চলমান বিরোধে জড়িয়ে পড়েন।
প্রতিক্রিয়া
এএফএ বা ট্যুরপ্রোডএন্টার এলএলসি-র পক্ষ থেকে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।



