দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) খাতের জন্য জরুরি ভিত্তিতে অল্প সুদে ঋণ সুবিধা প্রবর্তন এবং ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সংস্থাটি একইসঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ খাতের জন্য ঋণ প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজীকরণ, প্রণোদনা এবং কর অব্যাহতির মতো উদ্যোগ নেয়ার জোরালো আহ্বানও জানিয়েছে।
সচিবালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দাবি উপস্থাপন
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব দাবি ও প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ড. একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারীও উপস্থিত ছিলেন।
এসএমই খাতের অবদান ও সংকটের কথা
তাসকীন আহমেদ বলেন, "করোনা মহামারি এবং বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশের এসএমই খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বিপর্যস্ত খাতটি এখনও মোট জিডিপিতে প্রায় ৩০ শতাংশ অবদান রাখছে এবং শিল্পখাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮০ শতাংশ সুযোগ সৃষ্টি করছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এই খাতের টিকে থাকা এবং বিকাশের জন্য সরকারি সহায়তা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
এলডিসি উত্তরণ ও বেসরকারি খাতের ভূমিকা
ডিসিসিআই সভাপতি বাংলাদেশের এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) উত্তরণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি বলেন, "এই উত্তরণ প্রক্রিয়ার সফল বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সরকারের সংলাপ অব্যাহত রাখা একান্ত প্রয়োজন। এলডিসি উত্তরণের পর বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও তাদের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারকে আরও সক্রিয় এবং উদ্যোগী হতে হবে।"
জ্বালানি সংকট ও শিল্পের অগ্রাধিকার
বর্তমান বিদ্যমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলার বিষয়ে তাসকীন আহমেদ বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো সময়োপযোগী হলেও, জনগণের জীবন-জীবিকা, কর্মসংস্থান এবং শিল্প-কারখানার উৎপাদন বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া উচিত।" তিনি শিল্পখাতের টিকে থাকার জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
মুখ্য সচিবের প্রতিক্রিয়া ও আশ্বাস
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ডিসিসিআইয়ের দাবিগুলো শোনার পর বলেন, "নির্বাচিত সরকার দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সম্পূর্ণরূপে বদ্ধপরিকর। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও শিল্প-কারখানার কার্যক্রম উন্নত এবং গতিশীল করতে বেসরকারি খাতের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।" তার এই মন্তব্যে বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারের সহযোগিতামূলক মনোভাবের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
এসএমই খাতকে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হিসেবে বিবেচনা করে ডিসিসিআইয়ের এই দাবিগুলো অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



