টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সেরা ১০ অলরাউন্ডার: শেন ওয়াটসন থেকে সিকান্দার রাজা
টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সেরা ১০ অলরাউন্ডার

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সেরা ১০ অলরাউন্ডার: রেটিংয়ের শীর্ষে যারা

ক্রিকেটের সবচেয়ে দ্রুতগতির এবং উত্তেজনাপূর্ণ ফরম্যাট টি-টোয়েন্টি। মাত্র ২০ ওভারের এই খেলা আবিষ্কারের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয় জয় করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) নিয়মিতভাবে খেলোয়াড়দের র্যাংকিং হালনাগাদ করে, যেখানে অলরাউন্ডারদের ব্যাটিং ও বোলিং পয়েন্টের গুণফলকে ১০০০ দিয়ে ভাগ করে তাদের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। এই সমীকরণ অনুযায়ী, টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সেরা রেটিং পয়েন্ট অর্জনকারী ১০ জন অলরাউন্ডারের তালিকা নিচে দেওয়া হলো।

১. শেন ওয়াটসন: একমাত্র পেসার যার রেটিং ৫০০ ছাড়িয়েছে

অস্ট্রেলিয়ার এই অলরাউন্ডার শীর্ষ দশে থাকা একমাত্র পেস-বোলিং অলরাউন্ডার এবং একমাত্র খেলোয়াড় যার রেটিং ৫০০ ছাড়িয়েছে। ২০১২ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত টানা এক বছরের বেশি সময় ৪০০-এর ওপর রেটিং ধরে রেখেছিলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭০ রান ও ২ উইকেট নিয়ে যখন ৫৬৬ পয়েন্টের চূড়ায় পৌঁছান, তখন তাঁর ব্যাটিং রেটিং ছিল ৮৪৭, বোলিং রেটিং ৬৬৯।

২. মোহাম্মদ হাফিজ: পাকিস্তানের 'প্রফেসর'

পাকিস্তানের তারকা অলরাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজ মূলত ব্যাটসম্যান ছিলেন, শুরুর দিকে অফ স্পিন করতেন খণ্ডকালীন হিসেবে। তবে বল হাতে ধারাবাহিকতা একপর্যায়ে তাকে শীর্ষ অলরাউন্ডারে পরিণত করে। ২০১৩ সালে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে ৪৫২ রেটিং পয়েন্ট তোলেন ‘প্রফেসর’ নামে পরিচিত এই অলরাউন্ডার।

৩. শহীদ আফ্রিদি: টি-টোয়েন্টির আদর্শ প্যাকেজ

বিধ্বংসী ব্যাটিং আর কার্যকর লেগ স্পিন—শহীদ আফ্রিদি যেন ছিলেন টি-টোয়েন্টির আদর্শ প্যাকেজ। ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৭৬ রান ও ১১ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন। সেই বছরের শেষ দিকে নিউজিল্যান্ড সফরে ক্যারিয়ার–সর্বোচ্চ ৪৩৭ রেটিং পয়েন্ট স্পর্শ করেন।

৪. সাকিব আল হাসান: বাংলাদেশের গর্ব

বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান দীর্ঘসময় অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিলেন। ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রতিবছরই অন্তত একবার হলেও টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিলেন সাকিব। এর মধ্যে ২০১৫ সালের এপ্রিলে পাকিস্তান সিরিজের সময় তার রেটিং উঠেছিল সর্বোচ্চ ৪২০ পর্যন্ত।

৫. গ্লেন ম্যাক্সওয়েল: অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং অলরাউন্ডার

অস্ট্রেলিয়ান তারকা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এখনো খেলা ছাড়েননি। এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার ইদানীং বোলিং কমই করেন। ২০১৬ সালে শ্রীলংকা সিরিজে টানা দুই ম্যাচে অপরাজিত ১৪৫ ও ৬৬ রানের ইনিংস খেলে অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছিলেন ম্যাক্সওয়েল। তখন তার রেটিং পয়েন্ট ছিল ৩৭৫।

৬. সনাৎ জয়াসুরিয়া: শ্রীলংকার কিংবদন্তি

সনাৎ জয়াসুরিয়া তার সময়ের সেরাদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন। নব্বইয়ের দশকে ওয়ানডেতে শ্রীলংকার বদলে যাওয়ার অন্যতম কারিগর ছিলেন জয়াসুরিয়া। তার আক্রমণাত্মক ধারার ব্যাটিং পরবর্তী সময়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্যও আদর্শ হয়ে ওঠে। ২০১০ সালের এপ্রিলে তার ২৪তম ম্যাচের পর জয়াসুরিয়ার পরিসংখ্যান ছিল—২৭ গড়ে ৬০৬ রান এবং ২৩ গড়ে ১৭ উইকেট; রেটিং উঠে যায় ৩৬৬-তে।

৭. যুবরাজ সিং: টি-টোয়েন্টির 'পোস্টার বয়'

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের শুরুর দিকের ‘পোস্টার বয়’ ছিলেন যুবরাজ সিং। ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্টুয়ার্ট ব্রডের এক ওভারে ছয় ছক্কার সেই দৃশ্য। এই সংস্করণে আইসিসির ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ে ৮০০ রেটিং ছোঁয়া প্রথম ব্যাটসম্যানও তিনি। ২০১৩ সালের অক্টোবরে রাজকোটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত ৩৫ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলে অলরাউন্ডার হিসেবে নিজের সর্বোচ্চ ৩৬৩ রেটিংয়ে পৌঁছান। সেই ম্যাচের পর তার ব্যাটিং রেটিং ছিল ৭০০-এর বেশি, বোলিং রেটিং ৫০০-এর বেশি।

৮. মোহাম্মদ নবী: আফগানিস্তানের তারকা

আফগান তারকা মোহাম্মদ নবী ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বেশ কয়েকবার টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর অলরাউন্ডার হয়েছিলেন। এর মধ্যে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে শীর্ষে ছিলেন ৩৬১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে।

৯. ডেভিড হাসি: পার্ট-টাইম বোলিংয়ের জাদু

ডেভিড হাসি মূলত ব্যাটসম্যান হলেও পার্ট-টাইম বোলিং দিয়েই অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ের চূড়ায় উঠেছিলেন। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের পর তিনি ৩৩৭ রেটিং পয়েন্ট অর্জন করেন। সে বছর বল হাতেও দারুণ কিপটে ছিলেন তিনি, ওভারপ্রতি খরচ ছিল ৬-এরও কম রান।

১০. সিকান্দার রাজা: জিম্বাবুয়ের রেকর্ডধারী

চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মধ্যেই ৩২৮ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠেছেন জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা। আইসিসির পূর্ণ সদস্যদেশগুলোর মধ্যে রাজাই প্রথম ক্রিকেটার, যিনি ৩০০০ রান ও ১০০ উইকেটের ‘ডাবল’ মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।

এই তালিকাটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে অলরাউন্ডারদের অবদান এবং আইসিসির রেটিং পদ্ধতির গুরুত্বকে তুলে ধরে। প্রতিটি খেলোয়াড়ই তাদের অনন্য দক্ষতা দিয়ে এই সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটকে সমৃদ্ধ করেছেন, যা ক্রিকেট বিশ্বকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।