বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার বাটলারের গর্বিত স্বীকারোক্তি: 'হার লজ্জার নয়'
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচ: হার লজ্জার নয়

উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হারেও বাংলাদেশ নারী দলের কোচের গর্ব

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড় আফঈদা খন্দকার ও ঋতুপর্ণা চাকমাদের মিক্সড জোনে খুঁজেও পাওয়া যায়নি। উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫ গোলে হারের বিষন্নতায় কেউই কথা বলতে আগ্রহী ছিলেন না বলে মনে হয়। তাই কমব্যাংক স্টেডিয়াম ছেড়ে তারা দ্রুত টিম বাসে উঠে পড়েন। তবে খেলোয়াড়দের দেখা না মিললেও সংবাদ সম্মেলনে ঠিকই হাজির হন দলের ইংলিশ কোচ পিটার বাটলার। বড় ব্যবধানে হারলেও তার কণ্ঠে হতাশার ছাপ ছিল না; বরং শিষ্যদের চেষ্টায় গর্বই ঝরেছে।

ম্যাচের ধারা ও কোচের মূল্যায়ন

ম্যাচের শুরু থেকেই টেকনিক ও ট্যাকটিকসে এগিয়ে ছিল উত্তর কোরিয়া। দ্রুতগতির ফুটবল, নিখুঁত পাসিং এবং শারীরিক শক্তির কাছে বাংলাদেশ দল অনেকটা অসহায়ই মনে হয়েছে। তবু প্রথমার্ধের বড় একটা সময় প্রতিপক্ষকে আটকে রেখেছিল লাল-সবুজের মেয়েরা। কিন্তু বিরতির ঠিক আগে যোগ করা সময়ে টানা দুই গোল হজম করতেই তারা ছন্দ হারিয়ে ফেলে। এরপর উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক আক্রমণের ঢেউ সামলাতে পারেনি বাংলাদেশ।

ম্যাচ শেষে কোচ পিটার বাটলার বলেন, 'আমরা একটি অসাধারণ দলের বিপক্ষে খেলেছি—সম্ভবত এশিয়ার অন্যতম সেরা। তারা আজ আমাদের সত্যিকারের ফুটবলের শিক্ষা দিয়েছে। ৫–০, ৬–০ বা ৭–০ গোলে হারলেও এতে লজ্জার কিছু নেই। আমি মেয়েদের চেষ্টা নিয়ে গর্বিত। উত্তর কোরিয়ার অ্যাথলেটিক শক্তি দেখলেই বোঝা যায়, তাদের থামানো আমাদের জন্য কতটা কঠিন ছিল। এটা ছিল অসম লড়াই, কিন্তু ভালো দলের কাছে হার লজ্জার নয়।'

শিষ্যদের চেষ্টা ও গোলরক্ষকের প্রশংসা

শিষ্যদের নিয়ে তার গর্বের কারণও ব্যাখ্যা করেন এই ইংলিশ কোচ। তিনি বলেন, '৩০ মিনিটের মধ্যেই হয়তো ৩, ৪ কিংবা ৫ গোল হয়ে যেতে পারতো। কিন্তু মেয়েরা শেষ পর্যন্ত লড়েছে। সত্যি বলতে আমরা পজেশনে ভালো ছিলাম না, পজেশন ছাড়া সময়েও যথেষ্ট পরিশ্রম করতে পারিনি। আবহাওয়া কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে, তবে সেটাকে অজুহাত করতে চাই না—কারণ তা দুই দলের জন্যই সমান। চীন কিংবা উত্তর কোরিয়ার মতো দলের বিপক্ষে খেললে গোল খাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।'

হারলেও গোলপোস্টের নিচে লড়েছেন গোলরক্ষক মিলি আক্তার। একের পর এক শট ঠেকিয়ে বড় ব্যবধানের হার কিছুটা হলেও কমিয়ে রেখেছেন তিনি। তার প্রশংসায় বাটলার বলেন, 'মিলি সত্যিকারের যোদ্ধা। জীবনের প্রতি তার জেদ ও উদ্দীপনা প্রশংসনীয়। তার সঙ্গে কাজ করা দারুণ অভিজ্ঞতা। এই সুযোগ সে প্রাপ্য, তার জন্য আমার কেবল প্রশংসাই আছে।'

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বাস্তবতা

গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ৯ মার্চ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে জিততে পারলে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকবে। তবে বাস্তবতা মেনে নিয়েই বাটলার বলেন, 'আমাদের প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত হতে হবে। আমি সব সময় বলেছি—এই পর্যায়ে পৌঁছানোই আমাদের জন্য বড় সাফল্য। এই মানের দলগুলোকে হারানোর আশা করা কঠিন। তবে এটা হয়তো আমাদের জন্য একটি জেগে ওঠার বার্তা।'

উজবেকিস্তান ম্যাচের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি জানান, 'মেয়েরা এখন আইস বাথ নেবে। কাল আমরা পার্থে যাব এবং নিজেদের প্রস্তুত করবো। কোন সিস্টেমে খেলবো তা আমার জানা আছে। সবচেয়ে বড় কথা, বড় কোনও ইনজুরি ছাড়া ম্যাচটা শেষ হয়েছে—এটাই গুরুত্বপূর্ণ।'

শেষে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন দলের বয়সের বাস্তবতাও। বাটলার বলেন, 'এই দলের গড় বয়স মাত্র ১৯.৫ বছর, আর প্রতিপক্ষের গড় বয়স ২৩–২৪। তাই শক্তির লড়াইটাও ছিল ভিন্ন। আমরা আবার হাসিমুখে মাঠে নামবো, লড়াই করবে এবং সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবো। যদি তা যথেষ্ট হয়—ভালো। আর না হলেও জীবন থেমে থাকবে না।'