উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হারল বাংলাদেশ, মিলির বীরত্ব সত্ত্বেও দাপট দেখালো পরাশক্তি
উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হারল বাংলাদেশ, মিলির বীরত্ব বৃথা

উত্তর কোরিয়ার দাপটে বাংলাদেশের ৫-০ গোলে পরাজয়, মিলির বীরত্ব বৃথা

ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে উত্তপ্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে বাংলাদেশ মেয়েদের ফুটবল দল উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে পরাজিত হয়েছে। র‍্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বর অবস্থানে থাকা উত্তর কোরিয়ার সামনে ১১২ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের লড়াই ছিল একপ্রকার অসম যুদ্ধ, যেখানে গোলরক্ষক মিলি আক্তারের অসাধারণ পারফরম্যান্স সত্ত্বেও দলটি আক্রমণাত্মক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

মিলির একক প্রচেষ্টা ও ভিএআরের ভূমিকা

ম্যাচ শুরুর পর থেকেই উত্তর কোরিয়ার ধারালো আক্রমণভাগ বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে চাপে রাখে। গোলরক্ষক মিলি আক্তার যেন একাই প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, ম্যাচের ৬ মিনিটে হান জিন হংয়ের শট আটকানোসহ ১১ মিনিটে আরেকটি নিশ্চিত গোল রুখে দেন। প্রথমার্ধে উত্তর কোরিয়া ১৬টি শট নিলেও বাংলাদেশ একটি শটও নিতে পারেনি, যা দলের আক্রমণাত্মক সংকটকে উন্মোচিত করে।

ভিএআর প্রযুক্তিও বাংলাদেশের পক্ষে কিছুটা সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ১৪ মিনিটে উত্তর কোরিয়ার একটি গোল হ্যান্ডবল হিসেবে বাতিল হয়, এবং ২৬ মিনিটে অফসাইডের কারণে আরেকটি গোল নাকচ হয়ে যায়। ৩৮ মিনিটে কিম কিয়ং-ইংয়ের হেড পোস্টে লেগে ফিরে এলে বাংলাদেশি দর্শকরা সাময়িক স্বস্তি পান, কিন্তু প্রথমার্ধ শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য থাকে।

দ্বিতীয়ার্ধে উত্তর কোরিয়ার দাপট ও বাংলাদেশের প্রতিরোধ ভাঙন

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বাংলাদেশের কোচ পিটার বাটলার বিরতির আগেই সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনটি পরিবর্তন আনেন, স্বপ্না রানী, আনিকা ও উমেলাহকে মাঠে নামান। তবে প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে আফঈদার পেনাল্টি ফাউলের মাধ্যমে মিয়ং ইউ-ঝং গোল করে ডেডলক ভাঙেন (১-০)। মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে কিম কিয়ং-ইয়ং ব্যবধান দ্বিগুণ করেন (২-০), যা বাংলাদেশের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেয়।

৬২ মিনিটে চা উন-ইয়ং গোলরক্ষকের এগিয়ে আসার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তৃতীয় গোল করেন (৩-০), এবং ৬৪ মিনিটে কিম কিয়ং-ইয়ং তার দ্বিতীয় গোলটি করে দলের চতুর্থ গোল নিশ্চিত করেন। ম্যাচের ৮৯ মিনিটে পঞ্চম গোলটি হজম করে বাংলাদেশ, যা তাদের পরাজয়কে পূর্ণতা দেয়।

খেলার বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

চীনের বিপক্ষে আগের ম্যাচে লড়াকু মনোভাব দেখালেও বাংলাদেশ আজ উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি। উত্তর কোরিয়ার গতিশীল খেলা বাংলাদেশের মূল খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমাকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে দেয়, ফলে দলের আক্রমণভাগ কার্যকর হতে পারেনি। ম্যাচজুড়ে বাংলাদেশ কোনো আক্রমণ শাণাতে না পারায় তাদের রক্ষণভাগের উপর চাপ বৃদ্ধি পায়।

ফলাফল যা-ই হোক, সিডনির গ্যালারিতে প্রবাসী বাংলাদেশি দর্শকদের সমর্থন ছিল দলের একমাত্র প্রাপ্তি। জাতীয় সংগীত বাজানোয় আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়, যা খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল। ৯ মার্চ পার্থে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে কোয়ার্টার ফাইনালের সম্ভাবনা এখনও জিইয়ে আছে, তবে প্রথম দুই ম্যাচে ৭ গোল হজম করার পর পথটি বেশ বন্ধুর।

উত্তর কোরিয়া টানা দুই ম্যাচ জিতে শিরোপার দাবিদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ পরপর দুই ম্যাচে এশিয়ার শীর্ষ দল চীন ও উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হয়ে মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। উচ্চ র‍্যাঙ্কিংয়ের দলের সঙ্গে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পাঠ হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা যায়।