ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপনে কঠোর নির্দেশনা জারি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ আগামী পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বেশকিছু কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে নববর্ষের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
নববর্ষের প্রতিপাদ্য ও শোভাযাত্রার রুট
এ বছর নববর্ষের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। আনন্দ শোভাযাত্রা সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমি হয়ে পুনরায় চারুকলা অনুষদে গিয়ে শেষ হবে। শোভাযাত্রাটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধান নির্দেশনাসমূহ
ঢাবি কর্তৃপক্ষ নিম্নলিখিত নির্দেশনাগুলো জারি করেছে:
- মুখোশ ও ব্যাগ নিষেধ: পহেলা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের মুখোশ পরা এবং ব্যাগ বহন করা যাবে না। তবে চারুকলা অনুষদ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত মুখোশ হাতে নিয়ে প্রদর্শন করা যাবে।
- ভুভুজিলা বাঁশি নিষিদ্ধ: বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভুভুজিলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে।
- সময়সীমা: নববর্ষের সব অনুষ্ঠান বিকাল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে। ক্যাম্পাসে বিকাল ৫টার পর কোনোভাবেই প্রবেশ করা যাবে না, শুধু বের হওয়া যাবে।
- যানবাহন নিয়ন্ত্রণ: নববর্ষের আগের দিন ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে না। নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের যানবাহন চালানো যাবে না এবং মোটরসাইকেল চালানো সম্পূর্ণ নিষেধ।
- গেট ব্যবস্থাপনা: ক্যাম্পাসে বসবাসরত ব্যক্তিরা নিজস্ব গাড়ি নিয়ে যাতায়াতের জন্য শুধু নীলক্ষেত মোড় ও পলাশী মোড় সংলগ্ন গেট ব্যবহার করতে পারবেন। ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সম্মুখে রাজু ভাস্কর্যের পেছনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট বন্ধ থাকবে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসা ব্যক্তিরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশের জন্য চারুকলা অনুষদের সম্মুখে ছবির হাটের গেট, বাংলা একাডেমির সম্মুখে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট সংলগ্ন গেট ব্যবহার করতে পারবেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে প্রস্থানের পথ হিসেবে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট সংলগ্ন গেট, রমনা কালী মন্দির সংলগ্ন গেট ও বাংলা একাডেমির সম্মুখের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট ব্যবহার করা যাবে।
অতিরিক্ত সুবিধা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সম্মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেল্প ডেস্ক, কন্ট্রোল রুম এবং অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠ, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, দোয়েল চত্বর ও কার্জন হল এলাকায় মোবাইল পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে স্থাপন করে পুলিশ কর্তৃপক্ষকে মনিটরিং করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কমিটি গঠন
সভায় নববর্ষ উদযাপনে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশাকে আহ্বায়ক এবং চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখকে সদস্যসচিব করে কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠন করে নববর্ষের আয়োজনকে সফল করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।



