ইরাকে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত: নিহত বেড়ে ছয়জন, ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স দাবি দায়িত্ব
ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে একটি মার্কিন কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ছয়জন হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) মার্কিন সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে এই মর্মান্তিক খবর নিশ্চিত করেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সেন্টকমের বিবৃতি ও তদন্তের অবস্থা
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তাদের সামাজিক মাধ্যম পোস্টে জোর দিয়ে জানিয়েছে যে, এই দুর্ঘটনা ‘শত্রুপক্ষের হামলা বা ভুলবশত নিজেদের গুলিবর্ষণের (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) কারণে ঘটেনি’। তবে, তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও তদন্তাধীন রয়েছে এবং বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের আগে নিহতদের পরিবারগুলিকে অবহিত করা হবে।
সেন্টকমের প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, বিমান বিধ্বস্তের পর চারজন ক্রু সদস্যের মৃত্যু হয়েছে এবং বাকি দুইজনের সন্ধানে অভিযান চলছিল। পরবর্তীতে, এই দুইজনেরও মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়, যা নিহতের মোট সংখ্যা ছয়জনে পৌঁছায়।
ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের দাবি ও পূর্ববর্তী ঘটনাপ্রবাহ
মার্কিন বাহিনীর বক্তব্যের বিপরীতে, ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক দাবি করেছে যে তারাই এই কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকারটি ভূপাতিত করেছে। তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা দিয়ে বিমানটিকে নিশানা করা হলে সেটি ভূপাতিত হয়’।
এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘটেছে। এর আগে, যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে তিনটি মার্কিন এফ-১৫ স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল। ওয়াশিংটন দাবি করেছিল যে কুয়েতি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলে বিমানগুলো ধ্বংস হয়, অন্যদিকে ইরান বলেছিল এটি তাদের প্রতিশোধমূলক হামলার অংশ।
বিমান বিধ্বস্তের সম্ভাব্য কারণ ও প্রভাব
কীভাবে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিলেও, পূর্ববর্তী বিবৃতিতে আভাস দেওয়া হয়েছিল যে নিজেদের দুটি বিমানের মধ্যে সংঘাত বা খুব কাছাকাছি চলে আসার পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্বিতীয় বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে বলে জানানো হয়েছে।
রিফুয়েলিং বিমানগুলো যুদ্ধরত বিমানে জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, এবং এই ঘটনা মার্কিন সামরিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। নিহত ক্রু সদস্যদের পরিচয় পরিবারগুলিকে অবহিত করার ২৪ ঘণ্টা পর প্রকাশ করা হবে বলে সেন্টকম সূত্রে জানা গেছে।
এই ঘটনা ইরাক ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করতে পারে, বিশেষত যখন ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের মতো গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ অনিশ্চিত থাকলেও, এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
