জি-৭ বৈঠকে ট্রাম্পের দাবি: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইরান আত্মসমর্পণের পথে
জি-৭ বৈঠকে ট্রাম্পের দাবি: ইরান আত্মসমর্পণের পথে

জি-৭ বৈঠকে ট্রাম্পের দাবি: ইরান আত্মসমর্পণের পথে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিল্পোন্নত সাতটি দেশের জোট জি-৭-এর নেতাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ইরান আত্মসমর্পণ করতে চলেছে। গত বুধবার জি-৭ নেতাদের ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস শুক্রবার এই তথ্য প্রকাশ করেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

বৈঠকের বিস্তারিত বিবরণ

জি-৭ নেতাদের ওই বৈঠক সম্পর্কে জানাশোনা আছে—এমন তিনটি সূত্রের বরাতে এক্সিওসের খবরে বলা হয়েছে, বৈঠকে মিত্রদের ট্রাম্প বলেন, 'আমাদের সবার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানোর একটি ক্যানসার থেকে মুক্তি পেয়েছি।' এই সময় তিনি ইরানে মার্কিন অভিযান 'এপিক ফিউরি'র ফলাফল নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন। ট্রাম্প আরও যোগ করেন, 'কেউ জানে না ইরানের নেতা এখন কে। সুতরাং আত্মসমর্পণ ঘোষণার জন্য সেখানে কেউ নেই।' ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের বিষয়ে জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আগ্রাসন শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর ইরান পাল্টা হামলা চালালে যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার যুদ্ধের ১৪তম দিনেও পুরো অঞ্চলে ব্যাপক পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। এই দিন ইরাকের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি জ্বালানি তেল সরবরাহকারী সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে, যাতে চার মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে ইরানের পক্ষ থেকে আত্মসমর্পণ বা যুদ্ধবিরতির চেষ্টা করার কথা বারবার নাকচ করে আসছে। সম্প্রতি ইরানের পক্ষ থেকে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধের শেষটা তারাই করবে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নেতারা 'উন্মাদ নিকৃষ্ট মানুষ' এবং তাঁদের হত্যা করা তাঁর জন্য 'বড় সম্মানের' বিষয়।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে দরিদ্র মানুষদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে। ট্রাম্পের মন্তব্যগুলো জি-৭ জোটের মধ্যে সম্ভাব্য বিভেদ তৈরি করতে পারে, কারণ অন্যান্য দেশ যুদ্ধের সমাধানে কূটনৈতিক পথ অনুসরণের পক্ষে। ইরানের অবস্থান এখনও অনমনীয়, এবং তারা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, যাতে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত না হয় এবং মানবিক সংকট রোধ করা যায়।