সুনামগঞ্জে হাওড়ের বাঁধ কাটতে গিয়ে মাটিচাপায় যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু
সুনামগঞ্জে বাঁধ কাটতে গিয়ে মাটিচাপায় যুবকের মৃত্যু

সুনামগঞ্জে হাওড়ের বাঁধ কাটতে গিয়ে মাটিচাপায় যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার গুরমার হাওড়ের শৌলডুয়ারী বাঁধ কাটতে গিয়ে মাটিচাপায় এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়কে শোকের ছায়ায় ঢেকে দিয়েছে। নিহত আরমান মিয়া উপজেলার শালীয়ানী গ্রামের চানপর মিয়ার একমাত্র ছেলে হিসেবে পরিচিত।

দুর্ঘটনার পটভূমি

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে মধ্যনগর উপজেলার রুপেশ্বর হাওড়ের বিস্তীর্ণ জমিতে পানি আটকে পড়ে, যা কৃষিকাজে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করে। জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের জন্য গত শুক্রবার রাতে স্থানীয় কৃষকরা গুরমার হাওড়ের ৮ নম্বর উপ-প্রকল্পের শৌলডুয়ারী বাঁধ কেটে দেন, কিন্তু এটি প্রশাসনের কোনো অনুমতি ছাড়াই করা হয়েছিল।

দুর্ঘটনার বিবরণ

বাঁধ কাটার পর পানি বের হওয়ার একপর্যায়ে কাটা অংশের পাড় ধসে পড়ে এবং পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ধসে পড়া অংশের মাটি সরাতে রোববার সকালে শালীয়ানী গ্রামের কয়েকজন কৃষক সেখানে কাজ শুরু করেন। দুপুরের দিকে কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে পৌঁছলে হঠাৎ বাঁধের পাড়ে আরও একটি ধস নামে। এ সময় অন্যরা দ্রুত সরে যেতে সক্ষম হলেও আরমান মিয়া ধসে পড়া বাঁধের মাটির নিচে চাপা পড়ে যান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় লোকজন ও সঙ্গে থাকা শ্রমিকরা প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়রা গভীর শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, "বাঁধে মাটিচাপায় এক যুবকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে বাঁধ কাটার বিষয়ে প্রশাসনের কোনো অনুমতি ছিল না। আমাদের না জানিয়ে স্থানীয় লোকজন নিজেরাই পাউবো নির্মিত ৮ নম্বর উপ-প্রকল্পের বাঁধ কেটে দিয়েছেন; যা ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের কাজে প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

এই ঘটনা সুনামগঞ্জের হাওড় অঞ্চলে অবকাঠামোগত নিরাপত্তা ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। স্থানীয়রা এখন আরমান মিয়ার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।