মৌলভীবাজারে ফানাই নদের বাঁধের ব্লক ধসে পাকা সড়ক ঝুঁকিতে
ফানাই নদের বাঁধের ব্লক ধসে সড়ক ঝুঁকিতে

মৌলভীবাজারে ফানাই নদের বাঁধের ব্লক ধসে পাকা সড়ক ঝুঁকিতে

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নামা পাহাড়ি ঢলের তীব্র প্রভাবে ফানাই নদের বাঁধের সিসি ব্লক ধসে পড়েছে। এই ঘটনায় বাঁধের পাশাপাশি এর ওপর দিয়ে নির্মিত নয়াগাঁও-অলিপুর নতুন পাকা সড়কটি মারাত্মক ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩–এর অধীনে প্রায় দুই বছর আগে এই সড়ক পাকাকরণের কাজ শুরু হয়েছিল।

বাঁধের ব্লক ধসের কারণ ও প্রভাব

স্থানীয় ঠিকাদার আবদুল লতিফের মাধ্যমে ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকায় এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, যেখানে অলিপুর এলাকায় বাঁধের ভাঙনপ্রবণ ৫৫ মিটার জায়গায় সিসি ব্লক স্থাপন করা হয়েছিল। প্রায় চার মাস আগে সড়কের কাজ সম্পন্ন হলেও, মার্চ মাসের শেষ দিকে কয়েক দিন ধরে চলা ভারী বৃষ্টির পর উজান থেকে প্রচণ্ড বেগে পাহাড়ি ঢল নামে। এই ঢলের তোড়ে বাঁধের একাংশের ব্লক ধসে পড়ে, যা এখন মাটি নদে ধসে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম ওসমানী, আবদুল ওয়াহিদ, মৃণাল কান্তি দেবনাথসহ অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "প্রতিদিন বৃষ্টি হওয়ায় এই স্থানটি ক্রমাগত ঝুঁকির মুখে পড়ছে। ভারী বৃষ্টি হলে পাহাড়ি ঢলের কারণে নদতীরে বড় ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে, যা বাঁধ ও সড়ক ভেঙে নদতীরবর্তী বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে।" তাঁরা জরুরি ভিত্তিতে স্থানটি মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

ঠিকাদার আবদুল লতিফ মুঠোফোনে ব্যাখ্যা দেন যে, নকশা অনুযায়ী নদের বাঁধের ঢালে প্রায় তিন ফুট উচ্চতার দেয়াল নির্মাণ করে সিসি ব্লক স্থাপন করা হয়েছিল। তবে, ওই স্থানে নদের গভীরতা প্রায় ১০ ফুট হওয়ায় প্রবল স্রোতে পানি ঢুকে নিচের মাটি সরিয়ে ব্লক ধসে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাঁধের ওপর চাপ কমাতে কিছু ব্লক তুলে রাখা হয়েছে এবং এলজিইডির প্রকৌশলীরা স্থানটি পরিদর্শন করেছেন। ভাঙন ঠেকাতে উঁচু প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।

এছাড়া, ঠিকাদার আরও বলেন যে নদটির বিপরীত পাশে বড় চরের সৃষ্টি হয়েছে, এবং পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ার জন্য খননযন্ত্র দিয়ে চরের কিছু অংশ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কুলাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী প্রীতম শিকদার নিশ্চিত করেন যে, নয়াগাঁও-অলিপুর সড়কের ঠিকাদারের জামানতের টাকা এখনো জমা রয়েছে এবং তাঁকে ধসে পড়া স্থান মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সম্ভাব্য সমাধান ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

এই ঘটনা স্থানীয় অবকাঠামোর দুর্বলতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের দিকে আলোকপাত করেছে। এলজিইডি এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উচিত হবে দ্রুত মেরামত কাজ শুরু করে সড়ক ও বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। স্থানীয়দের উদ্বেগের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি বিবেচনা করা যেতে পারে:

  • জরুরি ভিত্তিতে বাঁধের ধসে পড়া অংশ মেরামত করা।
  • নদের গভীরতা ও স্রোতের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
  • স্থানীয় সম্প্রদায়ের সাথে আলোচনা করে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করা।

এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া না হলে, ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্যোগের মুখোমুখি হতে পারে মৌলভীবাজারের এই অঞ্চল।