কুষ্টিয়ায় পীর শামীম হত্যাকাণ্ড: এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি, মামলা ও গ্রেপ্তার নেই
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে কথিত পীর শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক মোতায়েন সত্ত্বেও উত্তেজনা রয়ে গেছে।
ময়নাতদন্তে গুরুতর আঘাতের প্রমাণ
সর্বশেষ রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. হোসেন ইমাম জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে মাথা, ঘাড় ও পিঠে গুরুতর ক্ষত পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও হামলা
এর আগে শনিবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উচ্ছৃঙ্খল জনতা দরবারে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে ঘটনাস্থলেই শামিম নিহত হন এবং কয়েকজন আহত হন। পরে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শামিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ও আহতদের পরিচয়
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত আব্দুর রহমান (৬৫), যিনি ‘শামিম বাবা’ নামে পরিচিত ছিলেন, তিনি দরবারের প্রধান ছিলেন। হামলায় তার তিন অনুসারী-মহন আলী, জামিরুন নেছা ও জুবায়ের আহত হন। পরে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা ফিরে গেছেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
ঘটনার পরপরই এলাকায় পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে সেখানে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই ঘটনার প্রায় একদিন হতে চললেও এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি এবং কাউকে আটক করা যায়নি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পরিবারের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
এদিকে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান জানান, ময়নাতদন্ত শেষে দরবার সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি চলছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পরিবার শঙ্কায় রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। কাউকে আটক করা যায়নি। তবে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।



