বনলতা এক্সপ্রেস প্রদর্শনী বন্ধ ও বাউল গান বাতিলে আসকের নিন্দা
বনলতা এক্সপ্রেস প্রদর্শনী বন্ধ ও বাউল গান বাতিলে আসকের নিন্দা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নামের চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ এবং নেত্রকোনার মদন উপজেলায় বাউল সংগীতের একটি পূর্বনির্ধারিত সাংস্কৃতিক আয়োজন চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বন্ধ করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। মঙ্গলবার (২ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় এই নিন্দা জানানো হয়।

সাংস্কৃতিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ

বার্তায় বলা হয়, “আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) মনে করে, এই ধরনের ঘটনা সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও নাগরিকের মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭, ২৮ ও ৩৯ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং চিন্তা, বিবেক, বাক্ ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা সংরক্ষিত; একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক চর্চা ও শিল্প-সাহিত্য চর্চা এই অধিকারগুলোর অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাশাপাশি বাংলাদেশ যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোর অংশ, সেই মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার অনুচ্ছেদ ১৯ ও ২৭ এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ (আইসিসিপিআর)-এর অনুচ্ছেদ ১৯ ও ২১ মতপ্রকাশ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক জীবনে অংশগ্রহণের অধিকার স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেছে। ফলে কোনো গোষ্ঠী বা চাপের মুখে এসব সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকার খর্ব করার সুযোগ নেই।”

রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব

আরও বলা হয়, “আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) আরও মনে করে, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো— সব নাগরিকের সাংস্কৃতিক ও মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত রাখা এবং নিশ্চিত করা যেকোনও ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা মতাদর্শগত চাপ আইনের শাসনকে পাশ কাটিয়ে জনপরিসরের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় ও নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গণতান্ত্রিক অধিকার ও সাংস্কৃতিক সহনশীলতা

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলছে, “সাংস্কৃতিক আয়োজন বা শিল্পচর্চার বিষয়ে ভিন্নমত বা সমালোচনা গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও, ভয়ভীতি, চাপ সৃষ্টি, প্রচারণা বা অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে কোনও আইন ও অধিকার সম্মত সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বন্ধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন প্রবণতা শুধু ব্যক্তিগত বা একটি আয়োজনের ক্ষতি করে না; বরং তা দীর্ঘমেয়াদে সমাজের সাংস্কৃতিক সহনশীলতা, বহুত্ববাদ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে দুর্বল করে দেয়।”

সরকারের প্রতি আহ্বান

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রতিটি সাংস্কৃতিক আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর, দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানায়।