অবহেলিত শিশু হাসপাতাল: ভবন নষ্ট, শিশুরা চিকিৎসাহীন
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশু হাসপাতালের ভবন নির্মাণ শেষ হলেও সেগুলো চালু না হওয়ায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অসংখ্য শিশু। রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, কুমিল্লা ও সিলেটে অবস্থিত ছয়টি শিশু হাসপাতাল উদ্বোধনের বছর পরও জনবল ও বাজেটের অভাবে বন্ধ রয়েছে। এই অবস্থায় হামের প্রাদুর্ভাবের সময় শিশুদের জন্য হাসপাতালে জায়গা সংকুলান না হওয়ার ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
৩২০ কোটি টাকার অবকাঠামো নষ্ট হওয়ার পথে
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রংপুরের ১০০ শয্যার শিশু হাসপাতালটি উদ্বোধনের ছয় বছর পরও চালু হয়নি। ৩১ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত এই ভবন এখন নষ্ট হওয়ার উপক্রম। একইভাবে রাজশাহীর ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল কয়েক বছর আগে কাজ শেষ হওয়ার পরও চালু করা যায়নি। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত চিঠি চালাচালি এবং কমিটি গঠন সত্ত্বেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে জনবল নিয়োগ আটকে আছে। প্রশ্ন উঠছে, জনগণের করের ৩২০ কোটি টাকা খরচ করে ভবন বানানোর আগে কি জনবল এবং বার্ষিক ব্যয়ের হিসাব করা হয়নি? যদি করা হয়ে থাকে, তবে কেন সেই প্রস্তাব বছরের পর বছর ফাইলবন্দী হয়ে পড়ে থাকে?
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দায়িত্বহীনতা
২০২০ সালে রংপুর শিশু হাসপাতালের ভবন বুঝিয়ে দেওয়ার পর জনবলকাঠামো চূড়ান্ত না করেই ২০২৩ সালে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এটি উদ্বোধন করেন। প্রশাসনিক অনুমোদনহীন একটি হাসপাতালের ফিতা কাটা জনগণের সঙ্গে একধরনের প্রতারণা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। রাজশাহীতে আইসিইউর অভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও সেখানকার হাসপাতাল চালু না হওয়ায় স্বাস্থ্যব্যবস্থায় অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার চরম নজির প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
রংপুর বিভাগে কোনো বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নেই, তাই এই প্রতিষ্ঠানটি ছিল এ অঞ্চলের শিশুদের জন্য আশার আলো। অথচ বাস্তবতা হলো, ভবন নির্মাণের পর প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও জনবল নিয়োগের অভাবে এটি এখনও অকার্যকর।
বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা
বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, শুধু চিঠি চালাচালি ও আশ্বাস নয়; বরং অবিলম্বে প্রশাসনিক বাধা দূর করে পূর্ণাঙ্গ জনবল ও প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে হাসপাতালগুলো চালু করার ব্যবস্থা নেওয়া হোক। রাজশাহী, রংপুরসহ অন্যান্য জায়গায় চালু না হওয়া, অবহেলিত ও সংস্কারহীন শিশু হাসপাতালগুলো কার্যকরভাবে সচল করা এবং উন্নয়ন ও সংস্কার করা জরুরি।
হামের প্রাদুর্ভাব থেকে শিক্ষা নিয়ে শিশুস্বাস্থ্য চিকিৎসায় বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচিত আমলাতান্ত্রিক জটিলতার নামে অবহেলা না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া, যাতে নির্মিত ভবনগুলো কাজে লাগানো যায় এবং শিশুরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে পারে।



