জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকটে ছাত্রদের অভিনব প্রতিবাদ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট নিরসনে বিশেষ বা সম্পূরক বৃত্তি প্রদানের দাবিতে অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদ। রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে প্রশাসনিক ভবনের চতুর্দিকে প্রদক্ষিণ করে মাইকিং কর্মসূচি পালন করা হয়।
মাইকিংয়ে ব্যঙ্গাত্মক কবিতা ও স্লোগান
এ সময় শিক্ষার্থীরা মাইকে ব্যঙ্গাত্মক কবিতা, স্লোগান ও প্রতিবাদী বক্তব্য তুলে ধরে প্রশাসনের প্রতি তাদের দাবি জোরালোভাবে জানান। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরজুড়ে প্রতিবাদের ধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে, যা শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ ও দাবির তীব্রতা প্রকাশ করে।
জবি শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রায়হান হোসেন রাব্বি বলেন, “আজকের মাইকিং কর্মসূচি ছিল প্রশাসনের ঘুম ভাঙানোর জন্য। এতে যদি ঘুম না ভাঙে, আমরা তাদের পদত্যাগ চাইবো। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। বৃত্তি আমাদের অধিকার।” তার এই বক্তব্যে ছাত্রদের সংগ্রামী মনোভাব ও দাবির গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।
প্রশাসনের গড়িমসির অভিযোগ
ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি একেএম রাকিব বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্পূরক বৃত্তি বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে এবং শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারের সঙ্গে আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, সম্পূরক বৃত্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং আবাসন সংকট নিরসন না হওয়া পর্যন্ত তা চালু থাকবে। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখনো কোনো সুস্পষ্ট পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। আমরা লাগাতার কর্মসূচির মাধ্যমে এ দাবি আদায় করবো।”
তার মতে, প্রশাসনের উদাসীনতা ও বিলম্বিত পদক্ষেপ ছাত্রদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে, যা এই প্রতিবাদের মূল কারণ।
পূর্ববর্তী কর্মসূচি ও দাবির পটভূমি
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র অধিকার পরিষদ সম্পূরক বৃত্তি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। এর আগে যমুনা ঘেরাও আন্দোলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা অন্তত ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে আবাসন ভাতা প্রদানের দাবি জানিয়ে আসছে।
- শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।
- বিশেষ বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে এই সংকট নিরসনের দাবি উঠেছে।
- প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গড়িমসির অভিযোগ করা হচ্ছে।
- ছাত্ররা লাগাতার আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের দাবি আদায়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
এই প্রতিবাদ কর্মসূচি শুধুমাত্র একটি ঘটনা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামের একটি অংশ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করছে সংশ্লিষ্ট সকল মহল।



