রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার সহমর্মিতার ঈদ কর্মসূচি: সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার উদ্যোগে সম্প্রতি 'সহমর্মিতার ঈদ' নামে একটি বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে অসংখ্য সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও তাদের পরিবারকে ঈদের আনন্দে শরিক করার চেষ্টা করা হয়েছে।
ছোট্ট জান্নাতের কষ্টের গল্প
জান্নাত আক্তারের বয়স মাত্র ছয় বছর। তার বাড়ি রাজশাহী আলোর পাঠশালার পাশে অবস্থিত। বাড়িটি টিন দিয়ে ঘেরা এবং ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। বন্ধুসভার সদস্যরা সম্প্রতি টোকেন পৌঁছে দিতে গিয়ে দেখেন, ছোট্ট জান্নাত আপন মনে খেলছে। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, 'ঈদের জামা কিনেছ?' তখন জান্নাত উত্তর দেয়, 'আমি যখন মাকে ঈদের জামা কিনে দেওয়ার কথা বলি, মা তখন মারে।' এই সরল উত্তরটি শিশুটির জীবনযাত্রার কঠিন বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলে।
রোহানের পরিবারের সংগ্রাম
আরেক শিশু রোহানের বয়স সাত বছর। তার বাবা দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন, কিন্তু প্রতিদিন কাজ জোটে না। ফলে সংসারে অভাব লেগেই থাকে। রোহানের মা বলেন, 'ছেলে কিছু বলে না, কিন্তু ঈদ সামনে এলেই চিন্তা বাড়তে থাকে। আমি তো মা, আমারও ইচ্ছা হয় ঈদের দিন বাচ্চা যাতে নতুন জামা পরতে পারে, ভালো খাবার খেতে পারে।' এই কথাগুলো একটি মায়ের হৃদয়বিদারক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
কর্মসূচির বাস্তবায়ন ও বিতরণ
'সহমর্মিতার ঈদ' কর্মসূচির অংশ হিসেবে জান্নাত ও রোহানের মতো অসংখ্য শিশুকে নতুন জামা এবং তাদের পরিবারকে ঈদের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী উপহার দেওয়া হয়েছে। ৫ মার্চ বিকেলে রাজশাহী প্রথম আলোর আলোর পাঠশালার শ্রেণিকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এই উদ্যোগটি স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
বন্ধুসভার নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়া
বন্ধুসভার উপদেষ্টা সারিকা তাসনিম বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য যতটা সম্ভব সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের মুখে হাসি ফোটানো এবং ঈদকে আনন্দময় করে তোলা।' অন্য একজন উপদেষ্টা তুহিনুজ্জামান বলেন, 'আজকের দিনটি আমার কাছে অনন্য। শিশুদের মুখে হাসি এবং তাদের খুশি দেখলেই মন আনন্দে ভরে যায়। আর তাদের জন্য একটি স্মরণীয় ঈদ আয়োজন করাটাই আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।'
সাধারণ সম্পাদক বাঁধন রায় বলেন, 'ঈদ শুধুই উৎসব নয়, এটি ভালোবাসা ও সহমর্মিতার প্রতীক। অনেক শিশু রয়েছে, যারা ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত। তাই তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং আনন্দ ভাগাভাগি করাই আমাদের লক্ষ্য। ঈদ হোক সবার জন্য সমৃদ্ধ, খুশি ও ভালোবাসায় ভরা।'
সভাপতি সুইটি রাণী বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য, ঈদ হোক সবার জন্য আনন্দের। তাই আমরা অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছি। যারা এই উদ্যোগকে সফল করতে সাহায্য করেছেন, তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ। আমাদের ছোট্ট প্রয়াস যদি শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে পারে, সেটাই বড় পুরস্কার।'
অন্যান্য উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
এই কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন:
- সহসভাপতি আররাফি সিরাজী (অন্তর)
- যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্রাবন্তী সরকার
- প্রচার সম্পাদক শামীম হোসেন
- পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মুয়াজ্জিন হোসাইন
- বইমেলা সম্পাদক ত্বা সীন জামান
- বন্ধু তানভীর রহমান, মেহেদী হাসান ও মাসুম বিল্লাহ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার এই উদ্যোগটি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিকতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটি শুধু ঈদের আনন্দই নয়, বরং সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে সমাজের প্রতিটি স্তরে।
