ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সংঘর্ষ বন্ধে মাতুব্বরদের শপথ, ঢাল-কাতরা পুড়িয়েছেন এমপি
ভাঙ্গায় সংঘর্ষ বন্ধে মাতুব্বরদের শপথ, ঢাল-কাতরা পুড়ালেন এমপি

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সংঘর্ষ বন্ধে মাতুব্বরদের ঐতিহাসিক শপথ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় চার গ্রামের মাতুব্বররা সংঘর্ষে না জড়ানোর শপথ নিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসংলগ্ন মুনসুরাবাদ মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই শপথ গ্রহণ করা হয়। ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের উপস্থিতিতে এই শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়, যেখানে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও হাজির ছিলেন।

অস্ত্র ধ্বংস ও শপথের মাহাত্ম্য

অনুষ্ঠানে সংঘর্ষে ব্যবহৃত ৩৫টি ঢাল ও ৫টি কাতরার বাঁশ সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম নিজ হাতে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেন। টিনের তৈরি ছয়টি ঢাল পোড়ানো সম্ভব না হওয়ায় সেগুলো থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। শপথ পড়ানোর পর সংসদ সদস্য বলেন, ‘আপনারা বলেন, আল্লাহকে হাজির-নাজির রেখে বলছি—আমরা নিজেরা নিজেরা আর কাইজ্জা-ফ্যাসাদ করব না। আমরা সবকিছু আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করব। আইন কাউকেই ছাড় দেবে না—এমপি, মন্ত্রী সবার জন্যই আইন সমান।’

মাতুব্বরদের প্রতিশ্রুতি ও নেতাদের উপস্থিতি

বিবদমান চার গ্রামের পক্ষে বক্তব্য দেন বাবর আলী, সাধু মাতুব্বর, মিজানুর রহমান, ফারুক হোসেন প্রমুখ। তাঁরা অস্ত্র উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ায় সংসদ সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভবিষ্যতে আর সংঘর্ষে জড়াবেন না বলে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী মোল্লা
  • ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাউসার ভুঁইয়া
  • ঘারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুনসুর আহম্মেদ
  • আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ম ম সিদ্দিক
  • হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোকন মিয়া

পুলিশের ভূমিকা ও মামলার প্রসঙ্গ

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) রেজওয়ান দীপু ও ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘এমপি সাহেবের উদ্যোগে আমরা ওই এলাকা থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছি। চেষ্টা করছি সমস্ত অস্ত্র উদ্ধার করে সংঘর্ষ কীভাবে এড়ানো যায় সেটা করার।’ গত শুক্র ও শনিবার চার গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৬০ জন আহত হন, যার মধ্যে পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সংঘর্ষের পটভূমি ও সমাধানের পথ

প্রসঙ্গত, গত শুক্র ও শনিবার হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই সংঘর্ষ টানা দ্বিতীয় দিন চলেছিল, যাতে পুলিশসহ ২৮ জন আহত হন। সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম আরও সতর্ক করে বলেন, ‘আপনারা ভবিষ্যতে কোনো কাইজ্জা-ফ্যাসাদ করে আমার কাছে তদবিরে আসতে পারবেন না। ছেলে কথা শোনে না—এটা বলবেন না। যে কথা শুনবে না, বুঝবেন সেটা গেছে। তাকে আমাদের দায়িত্বে দিয়ে দেন, পুলিশের কাছে দিয়ে দেন—সরকারি খাবার খাক।’

এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, এবং আশা করা হচ্ছে যে ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।