সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে বিএসএফের হাতে আটক, প্রায় ১১ মাস পর লাশ ফিরল আজিজুরের
সীমান্তে আটক, প্রায় ১১ মাস পর লাশ ফিরল আজিজুরের

সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে আটক, প্রায় ১১ মাস পর লাশ ফিরল আজিজুরের

সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটক হয়েছিলেন আজিজুর রহমান (৫০)। এরপর তাকে নির্যাতন করা হয়, যা তাকে গুরুতর আহত করে। প্রায় সাড়ে ১০ মাস পর তিনি লাশ হিসেবে বাংলাদেশে ফিরেছেন।

লাশ হস্তান্তরের মর্মান্তিক দৃশ্য

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকাল ৩টার দিকে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে আজিজুর রহমানের লাশ হস্তান্তর করেছে ভারতীয় পুলিশ। তেঁতুলিয়া মডেল থানা ও বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে এই হস্তান্তর সম্পন্ন হয়।

এ সময় তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম, বিজিবির বাংলাবান্ধা বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার ইউনুস, কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি উপহাইকমিশনের কর্মকর্তা এবং আজিজুরের স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন। পরে লাশ তার জামাতা দুলাল হোসেন ও ভাতিজা সোহেল রানার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আটক ও নির্যাতনের করুণ কাহিনী

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজিজুর রহমান ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সাহানাবাদ এলাকার বাসিন্দা। ২০২৫ সালের ১৪ মে সীমান্ত এলাকায় ঘাস কাটার সময় ভারতের ১৮৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আমবাড়ি বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে যান।

আটকের পর তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের। এরপর তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর শিলিগুড়ি জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। চলতি বছরের ২২ মার্চ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শিলিগুড়ি সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা

আজিজুরের মৃত্যুর পর লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে দুই দেশের মধ্যে প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয়। শুক্রবার বিকালে লাশ হস্তান্তরের পর তা অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার ভাতিজা সোহেল রানা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রানীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, "আজিজুরকে আটকের সময় ধস্তাধস্তি করলে বিএসএফ তাকে নির্যাতন করেছিল। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ভারতের কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। কারাগারেই অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তিনি মারা গেছেন।"

তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম বলেন, "গত বছরের ১৪ মে আজিজুর রহমান বিএসএফের হাতে আটক হন। তিনি শিলিগুড়ি কারাগারে ছিলেন এবং অসুস্থ হয়ে ২২ মার্চ হাসপাতালে মারা যান। শুক্রবার লাশ হস্তান্তরে বাংলাদেশ হাইকমিশন, বিএসএফ ও পুলিশ উপস্থিত ছিল।"

এই ঘটনা সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবাধিকার ইস্যুতে নতুন প্রশ্ন তুলেছে, যা আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার দাবি রাখে।