দেশে এখনো তেলের সংকট তৈরি হয়নি, তবে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে: অর্থমন্ত্রী
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশে এখনো তেলের কোনো সংকট তৈরি হয়নি। তবে উচ্চমূল্যে তেল ও গ্যাস কতদিন এভাবে চালানো সম্ভব হবে, তা চিন্তার বিষয়। তাই শিগগিরই তেলের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব ও সরকারি পদক্ষেপ
শুক্রবার বিকালে কেইপিজেড ইয়ংওয়ান করপোরেশন মিলনায়তনে চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির (সিআইইউ) শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন হুমকির মুখে পড়েছে, যা বাংলাদেশের ওপরও প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানির প্রধান উৎস ওই অঞ্চলে যুদ্ধ চলার অর্থ হলো সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়া। তবে সরকার উচ্চমূল্যে বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে সরবরাহ চেইন সচল রেখেছে।
মন্ত্রী বলেন, উচ্চমূল্যে জ্বালানি কেনার ফলে সরকারি তহবিলের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা সামাল দিতে সরকার কঠোর সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ৩০ শতাংশ জ্বালানি তেল রেশনিং করা হয়েছে।
জ্বালানি মূল্য ও বৈশ্বিক সংকট
আমির খসরু বলেন, সরকারি তহবিল রক্ষায় এবং জনস্বার্থে জ্বালানির মূল্য নিয়ে সহসা একটি সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বৈশ্বিক তেলের সংকট শুধু বাংলাদেশ নয়, আমেরিকাসহ সারা বিশ্বকে প্রভাবিত করছে। দেশের অধিকাংশ তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে এবং সংকট মোকাবিলায় সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ চালু রেখেছে। সর্বোপরি জ্বালানি নিরাপত্তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো কম্প্রোমাইজের সুযোগ নেই।
পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগ পরিবেশ
পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করা হবে। ব্যাংক ঋণনির্ভর বিনিয়োগের তুলনায় পুঁজিনির্ভর বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হবে। নতুন সরকারের সফলতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সবকিছুর সাপ্লাই চেইন অব্যাহত রয়েছে। এটি একটি চ্যালেঞ্জ, যার মোকাবিলায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানের অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিআইইউর উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমএম নুরুল আবসার সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন সহকারী রেজিস্ট্রার রুমা দাশ। স্বাগত বক্তব্য দেন কোরিয়ান ইপিজেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ শাহজাহান।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন- ইয়ংওয়ান করপোরেশন ও কোরিয়ান ইপিজেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কিহাক সাং, সিআইইউর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান লুৎফি এম আইয়ুব, সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ইয়ংওয়ান করপোরেশন ও কোরিয়ান ইপিজেডের কর্মকর্তা, সিআইইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



