জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের 'লুকোচুরি' অভিযোগ, শফিকুর রহমানের তীব্র সমালোচনা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, সরকার এই সংকটের ব্যাপারে জনগণের সঙ্গে 'লুকোচুরি' করছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে জনমনে অস্থিরতা ও স্বস্তির অভাব তৈরি করেছে।
সমাবেশে তীব্র বক্তব্য
শুক্রবার বিকালে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি কনভেনশন সেন্টারে ঢাকা জেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত একটি দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, জ্বালানি সংকট নিরসনে বিরোধী দল সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকলেও সরকার একতরফা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এছাড়াও, তিনি সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে 'ইস্পাত কঠিন আন্দোলনের' হুঁশিয়ারি দেন, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
ফ্যাসিবাদী আচরণের অভিযোগ
ডা. শফিকুর রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারের আচরণে 'ফ্যাসিবাদের সংক্রমণ' দেখা যাচ্ছে এবং জনগণের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তিনি সংসদে আলোচনা এড়িয়ে সময়ক্ষেপণ করে একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ন করছে বলে তিনি মনে করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
ঢাকা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন:
- কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আফজাল হোসেন
- সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মসিউল আলম
- নায়েবে আমির অধ্যক্ষ শাহীনুর ইসলাম
- নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমির মাওলানা আব্দুর জব্বার
এই নেতারা জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে সরকারের নীতির তীব্র সমালোচনা করেন এবং একটি সমন্বিত সমাধানের আহ্বান জানান।
সংকটের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে, যার ফলে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সূচনা করতে পারে, বিশেষ করে যখন বিরোধী দলগুলো সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার প্রস্তাব দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ইস্যুটি আরও উত্তপ্ত হতে পারে যদি না সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয় এবং সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে।



