আইএলওতে বাংলাদেশের নতুন সরকারের জন্য ৪৭ দেশের অভিনন্দন ও পূর্ণ সমর্থন
আইএলওতে বাংলাদেশ সরকারের জন্য ৪৭ দেশের সমর্থন

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থায় বাংলাদেশের নতুন সরকারের জন্য ব্যাপক সমর্থন

জেনেভায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ৩৫৬তম গভর্নিং বডি সেশনে বাংলাদেশের নতুন সরকারকে অভিনন্দন ও পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে ৪৭টি দেশ। মঙ্গলবার ঢাকায় প্রাপ্ত বার্তা অনুযায়ী, দেশগুলো প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের সরকারের সঙ্গে সহযোগিতামূলক কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। এই সরকার একটি অবাধ, ন্যায্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে।

শ্রম আইন সংস্কার ও চলমান মামলার প্রসঙ্গ

আলোচনায় ২০১৯ সালের জুন মাসে আইএলও সংবিধানের ২৬ ধারা অনুযায়ী দায়েরকৃত একটি মামলাও উঠে আসে। আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের পাঁচজন শ্রমিক প্রতিনিধি এই মামলা দায়ের করেছিলেন, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছিল যে তৎকালীন সরকার ৮১, ৮৭ ও ৯৮ নম্বর কনভেনশন মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে। এর জবাবে পূর্ববর্তী সরকার ২০২১ সালে আইএলও গভর্নিং বডির কাছে একটি পাঁচ বছরের শ্রম খাত সংস্কার রোডম্যাপ জমা দেয়। গত পাঁচ বছরে আটটি গভর্নিং বডি সেশনে এই রোডম্যাপের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং বর্তমান সরকার আজ নবম অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে।

অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর ব্যাপক প্রশংসা

সভায় অংশগ্রহণকারী সকল দেশের প্রতিনিধিরা বর্তমান সরকারকে তাদের সমর্থন জানিয়েছেন। ৫৬ সদস্যের গভর্নিং বডির মধ্যে ১৯টি সদস্য রাষ্ট্র, দুটি আঞ্চলিক গ্রুপের ২৮টি দেশ এবং নিয়োগকর্তা প্রতিনিধিরা নতুন সরকারের শ্রম খাতে আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কারের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রশংসা করেছেন এবং চলমান মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সক্রিয় অংশগ্রহণ

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে শ্রম, কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রম, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমিন উপস্থিত ছিলেন। জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান এবং শ্রম সচিব আবদুর রহমান তারাফদারও সভায় অংশ নেন। আলোচনার শুরুতে উপদেষ্টা মাহদি আমিন সকল গভর্নিং বডি সদস্যের কাছে প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের উষ্ণ শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং শ্রম অধিকার, শ্রমিক সুরক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচারে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অঙ্গীকারের ওপর আলোকপাত করেন।

সরকারের অগ্রাধিকার ও আইএলওর সঙ্গে সঙ্গতি

তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশের জনগণ সরকারকে একটি শক্তিশালী নির্বাচনি ম্যান্ডেট দিয়েছে, যা নাগরিক অধিকার, মানবাধিকার, আইনের শাসন, বাকস্বাধীনতা, ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মেধাভিত্তিক প্রবৃদ্ধির ওপর জোর দেয়। উপদেষ্টা বলেন যে এই অগ্রাধিকারগুলো আইএলওর শোভন কর্ম এজেন্ডার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি সেশনে আরও জানান যে বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধনী অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রণয়নের জন্য একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সরকার এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে বলে আশ্বাস দেন।

ত্রিপক্ষীয় আলোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সরকার ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে গৃহীত সংশোধনীর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও কর্মসংস্থান-চালিত উন্নয়ন সম্ভব করবে। প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শক্তিশালীকরণ এবং শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে উপদেষ্টা আইএলও ও অন্যান্য অংশীজনদের অব্যাহত সমর্থন কামনা করেন। ব্যাপক আলোচনার পর একমতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে মামলাটির ওপর পরবর্তী সেশন আগামী বছরের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হবে।