হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘর্ষ: অর্ধশতাধিক আহত, দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার
হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার একটি পল্লি এলাকায় পূর্ববর্তী বিরোধের জের ধরে ভয়াবহ সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের গুরুতর আহত ৩০ জনকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং স্থানীয় প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত ও পুলিশের হস্তক্ষেপ
মঙ্গলবার দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কারখানা বোয়ালজোর গ্রামে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা নির্ধারণ এবং সরকারি গোপাট নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। গ্রামের আব্দুল খালিছ ও আব্দুল বাহার গংদের সঙ্গে একই গ্রামের নামদার মিয়া ও সুমন মিয়া গংদের মধ্যে এই বিরোধ চলছিল।
দুপুরের দিকে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
আহতদের অবস্থা ও স্থানীয়দের বক্তব্য
কারখানা গ্রামের আব্দুল বাহার জানান, "কোনো উত্তেজনা ছাড়াই সকালে নামদার মিয়া ও সুমনের গ্রুপের লোকজন আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। আমাদের নারী-পুরুষসহ ২৫ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।"
অন্যদিকে, কারখানা গ্রামের সুমন মিয়া বলেন, "আমাদের সঙ্গে খালিছ মিয়া গংদের জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গালাগালি শুরু হলে সংঘর্ষ হয়। আমাদের পক্ষে অনেক আহত আছেন, এর মধ্যে ১০-১২ জনকে সিলেট নেওয়া হয়েছে।"
ইউপি সদস্য শাহ সুলতান আহমদ বলেন, তিনি এলাকায় না থাকলেও পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘর্ষ হয়েছে বলে জেনেছেন। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।
পুলিশের বক্তব্য ও আইনি পদক্ষেপ
নবীগঞ্জ থানার ওসি মোনায়েম মিয়া জানান, এই ঘটনায় বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, "এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের লোকজন মামলা দেননি। মামলা হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
এই সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে নারীসহ অনেকেই রয়েছেন, যা স্থানীয় সম্প্রীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন নজরদারি জোরদার করেছে যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
