প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী প্রার্থীদের বর্জনের আহ্বান জামায়াত নেতার
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ভোটারদের সঠিক প্রার্থী বেছে নেওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, যেসব প্রার্থী ক্ষমতায় যাওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যেই তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, তাদের কখনই নির্বাচিত করা যাবে না। এমন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারীদের অবশ্যই বর্জন করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জনসভার বক্তব্যে সরকারের সমালোচনা
আজ শনিবার দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলার স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, সরকার সংবিধানের বই হাতে নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতির কথা বললেও বাস্তবে তারা গণভোট বা সংস্কার পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মানতে চায় না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ রেজাউল করিমের মাটিতে দাঁড়িয়ে আজ কথা বলছি, তাই দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জনগণের সঙ্গে যারা প্রতারণা করে, তাদের আর সুযোগ দেওয়া যাবে না বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপট
এই জনসভাটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাসুদুর রহমানের পক্ষে আয়োজন করা হয়। জনসভায় উপস্থিত ছিলেন দলীয় প্রার্থী মাসুদুর রহমান নিজেও। উল্লেখ্য, জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারি এই আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল। নতুন তফসিল অনুযায়ী ৯ এপ্রিল ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও দলীয় অবস্থান
এই আসনে মূলত তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন:
- বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক (ধানের শীষ প্রতীক)
- জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাসুদুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক)
- বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্ক্সবাদী) প্রার্থী মিজানুর রহমান (কাঁচি প্রতীক)
জনসভার অন্যান্য বক্তারা
ঝিনাইগাতী উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম এবং ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সমর্থক এই জনসভায় অংশগ্রহণ করেন, যা নির্বাচনী প্রচারণায় দলের সক্রিয়তাকে নির্দেশ করে।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের এই বক্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে। ভোটারদের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল ভোট প্রদানের গুরুত্ব তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন। আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



