জামায়াতের নির্বাচনী অভিযোগ: ৩২ আসনে পুনর্গণনা দাবি, আদালতে ১৩টি চ্যালেঞ্জ
জামায়াতের নির্বাচনী অভিযোগ: পুনর্গণনা দাবি ও আদালতে চ্যালেঞ্জ

জামায়াতের নির্বাচনী অভিযোগ: ৩২ আসনে পুনর্গণনা দাবি ও আদালতে চ্যালেঞ্জ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কয়েকটি আসনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় অবস্থান বজায় রেখেছে। দলটি নির্বাচন কমিশনে ৩২টি আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে এবং ইতিমধ্যে অন্তত ১৩টি আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আবেদন করেছে।

ভোট পুনর্গণনার দাবি ও আদালতে মামলা

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি, নির্বাচনের মাত্র দুই দিন পর, ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য নির্বাচন কমিশনে ৩২টি আসনে ভোট পুনর্গণনার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করে। এই আসনগুলোর মধ্যে ২৫টিতে জামায়াত, ৩টিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ২টি আসনে খেলাফত মজলিস এবং ১টি করে আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

জামায়াতের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব আসনে অল্প ব্যবধানে তাদের জোটের প্রার্থীদের পরাজিত করা হয়েছে। দলটি দাবি করছে যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • ভোট গণনায় অতিরিক্ত দেরি
  • পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর ছাড়াই ফলাফল প্রকাশ
  • ভুয়া পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষরে ফলাফল প্রকাশ
  • কোনো কোনো ক্ষেত্রে পেনসিল দিয়ে ফলাফল লেখার ঘটনা

আদালতে চ্যালেঞ্জকৃত আসনসমূহ

ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু করে গত সপ্তাহ পর্যন্ত জামায়াতের ১২ জন প্রার্থী নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আবেদন করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন খুলনা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

অন্যান্য আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  1. ঢাকা-৬
  2. ঢাকা-৭
  3. ঢাকা-১০
  4. গাইবান্ধা-৪
  5. নারায়ণগঞ্জ-২
  6. নারায়ণগঞ্জ-৩
  7. লালমনিরহাট-১
  8. লালমনিরহাট-২
  9. বরগুনা-২
  10. পিরোজপুর-২
  11. কক্সবাজার-৪

এছাড়া ঢাকা-১৩ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মো. মামুনুল হকও আদালতে গিয়েছেন।

সাবেক উপদেষ্টাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

জামায়াত নির্বাচন ঘিরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক দুই উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও খলিলুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও সক্রিয়ভাবে প্রশ্ন তুলেছে। দলটি একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ করেছে।

৫ মার্চ জামায়াত সংবাদ সম্মেলন করে সাবেক দুই উপদেষ্টাকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ ও বিচারের দাবি জানায়। দলটির অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিএনপিকে সুবিধা দেওয়ার 'পুরস্কার' হিসেবেই খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্পষ্ট করে বলেন, 'আপাতত সাবেক দুই উপদেষ্টার বিচারের দাবি করছি, সময়ের প্রয়োজনে বাকিদের বিষয়ে কথা বলব।'

রাজনৈতিক কৌশল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

জামায়াত নেতাদের মতে, ৩২টি আসনে পুনর্গণনার দাবি মূলত একটি রাজনৈতিক বার্তা প্রদানের জন্য করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন জিইয়ে রাখা এবং সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।

দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উল্লেখ করেন, 'নির্বাচন কমিশনে যেসব আসনের বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, তার বাইরেও যদি পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়, তবে প্রার্থীরা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ফল চ্যালেঞ্জ করা আসনের সংখ্যা বাড়তে পারে।'

জামায়াত নেতারা মনে করেন, সংসদ নির্বাচনে কিছু কারচুপি হয়েছে, বিশেষত ভোট গণনায়। তবে তারা এখনই মাঠে শক্ত অবস্থানে যাওয়ার চিন্তা করছেন না, বরং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছেন।

নির্বাচনী ফলাফল ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। দলটি এককভাবে ২০৯টি এবং জোটগতভাবে ২১২টি আসনে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে জামায়াত এককভাবে ৬৮টি এবং জোটগতভাবে ৭৭টি আসনে জয়লাভ করেছে।

যে ৩২টি আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানানো হয়েছিল, তার মধ্যে ঢাকা-৬, নারায়ণগঞ্জ-২ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের উল্লেখ ছিল না। এই আসনগুলোয় জয়ী ও বিজিতের ভোটের ব্যবধান তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। ঢাকা-৬ আসনে ব্যবধান ২৩ হাজারের বেশি, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে ৪২ হাজারের বেশি এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে সাড়ে ২০ হাজার ভোটের ব্যবধান রেকর্ড করা হয়েছে।

জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ৯ মার্চ এক ইফতার অনুষ্ঠানে বলেন, 'নির্বাচনের আগে আমরা বড় গলায় বলেছি, আমরা কোনো দলের বিজয় চাই না। আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। ওই বিজয় অর্জিত হয়নি। ভোটের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।'

দলটির নেতারা সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন ইস্যুতে শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছেন এবং নির্বাচনের ইস্যু সক্রিয় রাখতে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে চান বলে জানিয়েছেন।