ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্টকে বললেন: 'সুদর্শন পুরুষ, কিন্তু আমার পছন্দ নারী'
ট্রাম্প: সুদর্শন পুরুষ পছন্দ নয়, নারী পছন্দ

ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্টকে বললেন: 'সুদর্শন পুরুষ, কিন্তু আমার পছন্দ নারী'

গাজা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গঠিত 'বোর্ড অব পিস'-এর প্রথম বৈঠকে একটি অস্বাভাবিক মন্তব্য শোনা গেল। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই শান্তি পর্ষদের উদ্বোধনী সভায় ট্রাম্প প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়াকে 'তরুণ ও সুদর্শন ব্যক্তি' হিসেবে অভিহিত করার পর বললেন, 'তরুণ এবং সুদর্শন হওয়া সবসময়ই ভালো। তবে তার মানে এই নয় যে আমাদের আপনাকে পছন্দ করতে হবে। আমি তরুণ ও সুদর্শন পুরুষদের পছন্দ করি না। আমি পছন্দ করি নারীদের। পুরুষদের প্রতি আমার কোনো আগ্রহ নেই।'

বৈঠকের প্রেক্ষাপট ও ট্রাম্পের পরিবর্তিত ভূমিকা

ধারণা করা হচ্ছিল, ট্রাম্পের বক্তব্য দীর্ঘ হবে এবং তিনি তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরের সাফল্য নিয়ে আলোচনা করবেন। কিন্তু তিনি পূর্বনির্ধারিত পাণ্ডুলিপির বাইরে গিয়ে উপস্থিত বিশ্বনেতাদের স্বাগত জানান, তাদের ধনসম্পদ, ক্ষমতা ও সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন। এটি ট্রাম্পের সাধারণ 'গুড-কপ, ব্যাড-কপ' কৌশল থেকে ভিন্ন ছিল, যেখানে তিনি স্বার্থ অনুযায়ী কখনো প্রশংসা, কখনো হুমকি দিয়ে থাকেন।

এই বৈঠকে ট্রাম্প উপস্থিত নেতাদের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কোনো সমালোচনার ইঙ্গিত দেননি, যা তার অতীত বক্তব্যের থেকে আলাদা। তবে যারা ওয়াশিংটনে শান্তি পর্ষদের উদ্বোধনী বৈঠকে অংশ নেননি, তাদের উদ্দেশে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, 'আমার সঙ্গে চালাকি করা যাবে না।'

প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়া কে?

প্যারাগুয়ের ৫২তম এবং বর্তমান রাষ্ট্রপতি সান্তিয়াগো পেনিয়া ১৯৭৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ৪৭ বছর বয়সি এই অর্থনীতিবিদ একজন সুদর্শন, মার্জিত ও ক্যারিশম্যাটিক তরুণ রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। তিনি ২০২৩ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তার ব্যক্তিত্বে আধুনিক ও পেশাদার রাজনীতিকের ছাপ স্পষ্ট। তারুণ্যদীপ্ত চেহারা এবং সুশৃঙ্খল ভাবমূর্তি প্যারাগুয়ের রাজনীতিতে তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

শান্তি বোর্ডের চ্যালেঞ্জ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

সেপ্টেম্বরে গাজা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ট্রাম্প যে ফোরাম গঠন করেন এবং যা তিনি বৈশ্বিক সংঘাত সমাধানের প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করতে চান, তাতে যোগ দিতে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন মিত্র অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সমালোচকদের মতে, এটি জাতিসংঘের কাজের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াতে পারে। মার্কিন শীর্ষ মিত্রদের ছাড়াই ওয়াশিংটনে শুরু হওয়া এই শান্তি বোর্ডের প্রথম বৈঠক আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য শান্তি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একটি হালকা মাত্রা যোগ করলেও, এটি তার ব্যক্তিত্ব ও কূটনৈতিক শৈলীর একটি দিক তুলে ধরেছে। বৈশ্বিক সংঘাত সমাধানের এই নতুন উদ্যোগ কীভাবে এগোবে, তা এখন দেখার বিষয়।