ইরানে মার্কিন হামলাকে 'আগুন নিয়ে খেলা' বললেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ
ইরানে মার্কিন হামলা 'আগুন নিয়ে খেলা': রাশিয়ার ল্যাভরভ

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলাকে 'আগুন নিয়ে খেলা' বললেন ল্যাভরভ

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো ধরনের হামলাকে 'আগুন নিয়ে খেলা' হিসেবে বর্ণনা করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সম্প্রতি সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। ল্যাভরভ স্পষ্ট করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে এবং এর ফলে বড় ধরনের পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে

আলোচনার পরপরই এলো এই মন্তব্য

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার ঠিক একদিন পরই ল্যাভরভের এই মন্তব্য সামনে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানি স্থাপনাগুলোতে অতীতেও হামলা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাশিয়ার এই শীর্ষ কূটনীতিকের মতে, এই পুরো বিষয়টিই একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করছে যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নীতির তীব্র সমালোচনা

সাক্ষাৎকারে ল্যাভরভ কেবল সামরিক উত্তেজনাই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি রাজনীতিরও তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, নবনির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন হঠাৎ করেই রুশ জ্বালানি কোম্পানি 'লুকঅয়েল' ও 'রোসনেফট'-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এছাড়া ভারতকে রুশ তেল কেনা বন্ধ করতে চাপ দেওয়া এবং ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতে রাশিয়া, চীন ও ইরানকে নিষিদ্ধ করার মতো মার্কিন সিদ্ধান্তগুলোকে তিনি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার থেকে রাশিয়াকে সরিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন।

দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা

ল্যাভরভ আক্ষেপ করে বলেন, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন সংকটের সমাধান হলে পারস্পরিক সহযোগিতার কথা বলছে, অন্যদিকে তারা একের পর এক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে রাশিয়ার ব্যবসায়িক স্বার্থে আঘাত হানছে। তার মতে, ওয়াশিংটনের এই দ্বিমুখী নীতি এবং ইরানের প্রতি আক্রমণাত্মক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি সতর্ক করে দেন যে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।

এই সাক্ষাৎকারে ল্যাভরভের বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, রাশিয়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের উপর মার্কিন নীতির প্রভাব নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে।