ইরানের মার্কিন বিনিয়োগ ও উড়োজাহাজ কেনার আগ্রহ, পারমাণবিক চুক্তির দ্বিতীয় দফা আলোচনা আসন্ন
ইরানের মার্কিন বিনিয়োগে আগ্রহ, পারমাণবিক চুক্তির দ্বিতীয় দফা আলোচনা

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন একটি পারমাণবিক চুক্তি করতে আগ্রহী, যা উভয় পক্ষের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে। রোববার এক ইরানি কূটনীতিক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনের সম্ভাবনা নিয়ে আসছে।

আলোচনার পটভূমি ও লক্ষ্য

এ মাসের শুরুতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের সমাধানে আলোচনা পুনরায় শুরু করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো নতুন কোনো সামরিক সংঘাত এড়ানো। মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, আলোচনা ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটন দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই অঞ্চলে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানো হয়েছে।

ইরানের নমনীয় অবস্থান ও অর্থনৈতিক প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে ইরান পূর্বে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানার হুমকি দিলেও, রোববার তারা তুলনামূলকভাবে নমনীয় অবস্থান দেখিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক কূটনীতি-বিষয়ক উপপরিচালক হামিদ গানবারি বলেছেন, চুক্তি সফল করতে যুক্তরাষ্ট্রকেও এমন খাতে অংশগ্রহণ করতে হবে, যেখানে দ্রুত ও উচ্চ অর্থনৈতিক লাভ পাওয়া যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আলোচনায় তেল ও গ্যাস, খনিজ খাতের বিনিয়োগ, এমনকি বিমান কেনাবেচাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। গানবারি এও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ২০১৫ সালের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত হয়নি, যা ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা ও পুনরায় কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপের পিছনে একটি কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আসন্ন বৈঠক ও মধ্যস্থতা

রয়টার্স জানিয়েছে, স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারসহ একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার জেনেভায় ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে। বর্তমান আলোচনায় শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র অংশ নিচ্ছে, যেখানে ওমান মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনায় অংশ নিতে জেনেভার উদ্দেশে তেহরান ছেড়েছেন, যেখানে তিনি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

পারমাণবিক ইস্যু ও আপসের সম্ভাবনা

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি বলেছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আপস করার জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব এসেছে, তবে শূন্য মাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তেহরান মেনে নেবে না। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা বাড়ায়, যদিও ইরান এই ধরনের অস্ত্র তৈরির চেষ্টা অস্বীকার করে আসছে।

সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ

এই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে মিলিত হয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে বিমান হামলায় অংশ নিয়েছে এবং একই সঙ্গে অর্থনৈতিক চাপও বৃদ্ধি করেছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চীনে ইরানের তেল রপ্তানি কমানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন। ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৮০% এর বেশি চীনে যাচ্ছে, তাই এতে ইরানের তেল আয়ের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।

স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাটিস্লাভায় এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কো রুবিও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধান ও আলোচনাকে অগ্রাধিকার দেন, তবে ব্যর্থতার সম্ভাবনা থাকাও স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে সফল চুক্তি এখনো কেউ করতে পারেনি, কিন্তু আমরা চেষ্টা করব।’ এই মন্তব্য আলোচনার জটিলতা ও চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে।

কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই ইরান হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া শুরু করেছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর সম্ভাবনা রাখে। সামগ্রিকভাবে, ইরানের মার্কিন বিনিয়োগ ও উড়োজাহাজ কেনার আগ্রহ পারমাণবিক চুক্তির আলোচনায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে, কিন্তু সামরিক প্রস্তুতি ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে।