দুদকের তিন মামলায় সাবেক এমপি মহারাজ, স্ত্রী ও পুত্রের বিপুল অবৈধ সম্পদ ক্রোক
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ, তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম এবং পুত্র শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে। মামলাগুলোতে তাদের নামে গাড়ি, বাড়ি, জমিসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে, যা ইতিমধ্যে আদালতের আদেশে ক্রোক ও ফ্রিজ করা হয়েছে।
মামলার বিস্তারিত ও সম্পদের হিসাব
মঙ্গলবার দুদকের সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন বাদী হয়ে মহারাজের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের আদেশে আসামি মহারাজ, তার স্ত্রী ও পুত্রের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা হয়েছে। দুদকের দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা যায়, মহিউদ্দিন মহারাজের বিরুদ্ধে ১২২টি দলিলে জমি, বাড়ি, ফ্লাট, মার্কেট ও দোকানের মূল্য ২৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এছাড়া তার কাছে দুটি বিলাসবহুল গাড়িও রয়েছে।
মামলার আর্জিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মহারাজের বিরুদ্ধে ৫৪ কোটি ৭৯ লাখ ৭৪৯ টাকার সম্পদের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয় মাত্র ৩ কোটি ৫১ লাখ ৬৮ হাজার ১১৮ টাকা। এর মাধ্যমে স্থানান্তর, হস্তান্তর বা লেনদেনের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে, যেখানে পুত্র ইফতিও মামলার আসামি হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।
স্ত্রী ও পুত্রের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা
অপরদিকে, দুদকের সহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মহারাজের স্ত্রী উম্মে কুলসুমের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেছেন। মামলায় বলা হয়েছে, গৃহিণী স্ত্রী ও পুত্র ইফতিকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে অবৈধ আয়কে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন মহারাজ। সূত্রমতে, উম্মে কুলসুম জমি, ফ্লাট ও দোকানসহ ১ কোটি ৬৬ লাখ ৫৩ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৬ কোটি ৮৮ লাখ ১৬ হাজার ৮৪২ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। তার এই সম্পদ অসাধু উপায়ে অর্জিত এবং জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, পুত্র শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধে মামলার বাদী মনিরুল ইসলাম এজাহারে উল্লেখ করেন, ইফতির নামে জমি ও দোকান ক্রয় বাবদ স্থাবর সম্পদ ও অস্থাবর সম্পদ বাবদ মোট ২ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার ৬৭৬ টাকা সম্পদের হিসাব পাওয়া গেছে। দুদকের মামলার আসামি ইফতি একজন ছাত্র হওয়ায় তার নিজের আয়ের কোনো উৎস নেই। প্রকৃতপক্ষে, তার পিতা মহিউদ্দিন মহারাজ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উপার্জিত অপরাধলব্ধ আয় থেকে পুত্রের নামে অর্জিত আয় দেখিয়ে ১ কোটি ৯৫ লাখ ৫৩ হাজার ১৯২ টাকা অবৈধ আয়ের উৎস গোপন করার চেষ্টা করেছেন।
আইনগত পদক্ষেপ ও শাস্তির সম্ভাবনা
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মহিউদ্দিন মহারাজের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৪-এর ২৭(১) ধারাসহ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর (৪)২ ও (৪)৩ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এই মামলাগুলো পিরোজপুর সদরে দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতের তদন্ত চলমান রয়েছে। দুদকের এই কঠোর পদক্ষেপ সমাজে দুর্নীতিবিরোধী বার্তা পাঠাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
