মোয়াজ্জেম হোসেন বড়পুকুরিয়া কয়লা দুর্নীতি মামলা থেকে অব্যাহতি
মোয়াজ্জেম হোসেন বড়পুকুরিয়া কয়লা দুর্নীতি মামলা থেকে অব্যাহতি

হাইকোর্ট বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনকে। মামলার কার্যক্রম বাতিল চেয়ে মোয়াজ্জেম হোসেনের করা আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ রায় দেন।

মামলার পটভূমি

এর আগে এ মামলায় ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর বিচারিক আদালত জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নজরুল ইসলাম, হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। বিএনপির তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ভাইস চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর বাইরে মারা যাওয়ায় মামলা থেকে আরও কয়েকজন অব্যাহতি পান।

আইনি প্রক্রিয়া

অভিযোগ গঠনের বৈধতা নিয়ে মামলার কার্যক্রম বাতিল চেয়ে গত বছর হাইকোর্টে আবেদন করেন মোয়াজ্জেম হোসেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল দিয়ে মোয়াজ্জেম হোসেনের ক্ষেত্রে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন। রুলে মামলাটির কার্যক্রম কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। আজ রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে রায় দেওয়া হলো।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতে শুনানি

আদালতে মোয়াজ্জেম হোসেনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন ও আইনজীবী খন্দকার মারুফ হোসেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শাহীন আহমেদ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনজীবীর বক্তব্য

রায়ের পর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ বি এম আলতাফ প্রথম আলোকে বলেন, মামলায় মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। মামলার প্রধান আসামিরা ইতিমধ্যে অব্যাহতি পেয়েছেন। প্রধান আসামিদের অব্যাহতির পর সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা চলতে পারে না। হাইকোর্ট মোয়াজ্জেম হোসেনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। তাঁর ক্ষেত্রে মামলাটির কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

মামলার ইতিহাস

২০০৮ সালে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলাটি করা হয়। মামলায় বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা উত্তোলন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ করা হয়। মামলায় রাষ্ট্রের ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন ও আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়। একই বছরের ৫ অক্টোবর ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল দুদক।