বাংলাদেশি ভুয়া উবারচালক আব্দুল শহিদকে ধর্ষণের দায়ে ১৮ বছরের বর্ধিত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে বিচারক যাকে ‘বিপজ্জনক অপরাধী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, সে কীভাবে অবাধে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পেল, তা নিয়ে এখন উঠেছে একাধিক অমীমাংসিত প্রশ্ন।
ঘটনার বিবরণ
২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারিতে ঘটা এই ঘটনার পর বিচার ব্যবস্থার একটি দুর্বল দিক উন্মোচিত হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, হামলার ঠিক পরেই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ৪১ বছর বয়সী আব্দুল শহিদ উবার চালক সেজে ১৮ বছর বয়সী এক কিশোরীকে তার ভক্সহল গাড়িতে তুলে নেয় এবং ওয়াউন ওয়েনের এক অন্ধকার গলিতে নিয়ে ধর্ষণ করে।
উদ্ধার ও পুলিশি তৎপরতা
নির্যাতিতা কিশোরীকে রেল স্টেশনের কাছে ফেলে যাওয়ার পর, ওই কিশোরীর এক পরিচিত ব্যক্তি তাকে খুঁজতে বের হন। তাকে অত্যন্ত বিধ্বস্ত অবস্থায় উদ্ধার করার পর ওই ব্যক্তি তাৎক্ষণিক ৯৯৯-এ কল করেন। তবে আদালতের এক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, কল হ্যান্ডলার তাকে জানিয়েছিলেন যেহেতু তিনি নিজে ভিকটিম নন, তাই তারা রিপোর্টটি গ্রহণ করতে পারছেন না। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি একটি টহল পুলিশ গাড়িকে থামিয়ে সাহায্য চাইলে তখন পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়।
পুরস্কার ও আইনি প্রক্রিয়া
বিচারক মার্ক পাওয়েল কেসি পরবর্তীতে ১৮২৬ সালের ফৌজদারি আইন অনুযায়ী ওই ব্যক্তিকে ৫০০ পাউন্ড পুরস্কার দেওয়ার নির্দেশ দেন। একজন সাধারণ নাগরিকের সাহসিকতাকে স্বীকৃতি দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, আব্দুল শহিদ একজন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি নাগরিক। তিনি সোয়ানসি এলাকার একটি পারিবারিক রেস্তোরাঁয় কাজ করত। ঘটনার রাতে রেস্তোরাঁ থেকে শিফট শেষ করেই সে ধর্ষণের ঘটনা ঘটায়।
অপরাধীর পূর্ব ইতিহাস
আদালতে প্রসিকিউশন পক্ষ জানিয়েছে, শহিদের আগে কোনও আনুষ্ঠানিক সাজা না থাকলেও ২০২০ সালে তাকে দুইবার সোয়ানসি পুলিশের জেরার মুখে পড়তে হয়েছিল। সে সময় তাকে তার গাড়িতে চড়ে অল্পবয়সী মেয়েদের উত্ত্যক্ত করতে দেখা যায়। তখন কোনও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি না হলেও, বর্তমান সাজা প্রদানের ক্ষেত্রে তার সেই পুরোনো আচরণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডের শর্ত
১৮ বছরের এই দণ্ডটি একটি বর্ধিত দণ্ড। শহিদকে তার ১৪ বছরের মূল কারাদণ্ডের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ (প্রায় ৯ বছর ৪ মাস) ভোগ করার পর প্যারোলের আবেদন করতে হবে। এরপর প্যারোল বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে যে, সে সমাজের জন্য নিরাপদ কি না।
তদন্তকারীর মন্তব্য
তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিটেকটিভ কনস্টেবল ক্লেয়ার ডেভিস বলেন, পুরো ট্রায়াল জুড়ে আব্দুল শহিদ কোনও অনুশোচনা দেখায়নি, বরং সে ভিকটিমকেই দোষারোপ করার চেষ্টা করেছে।



