দুদক চেয়ারম্যান ড. এমএ মোমেন ও কমিশনারদের পদত্যাগের গুঞ্জন: বিকালে ক্যাবিনেট সেক্রেটারির সাথে সাক্ষাৎ
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. এমএ মোমেন এবং অপর দুই কমিশনারের পদত্যাগের গুঞ্জন কয়েকদিন ধরে শোনা যাচ্ছে। আজ সকালে সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে চেয়ারম্যান অফিস করেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন।
চেয়ারম্যানের বক্তব্য: সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
দুদক চেয়ারম্যান ড. এম মোমেনের কাছে পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "শুনেছি। তবে তা আমরা ক্যাবিনেট সেক্রেটারির মুখ থেকে শুনতে চাই। এ জন্য বিকাল ৩টায় তার সাথে সাক্ষাৎ আছে। তখন সরকারের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হতে পারব।" তিনি উল্লেখ করেন, দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান এবং কমিশনের কাজে কেউ হস্তক্ষেপ করেনি।
ড. মোমেন আরও বলেন, দুদক কমিশনারদের পদত্যাগের নিয়ম অনুযায়ী, পদত্যাগ করতে হলে রাষ্ট্রপতির কাছে এক মাস আগে জানাতে হয়। তিনি বলেন, "এখন দেখা যাক প্রকৃতপক্ষে কী হয়।"
অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগ ও কমিশনারদের যোগদান
ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর সিনিয়র সচিব ড. এমএ মোমেনকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। কমিশনের অপর দুই সদস্য হলেন:
- অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী (তদন্ত কমিশনার), যিনি ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর নিয়োগ পান এবং ১১ ডিসেম্বর যোগদান করেন।
- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ (অনুসন্ধান কমিশনার), যিনি ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর নিয়োগ পান এবং ১৫ ডিসেম্বর যোগদান করেন।
দুদকের ইতিহাস: রাজনৈতিক পরিবর্তন ও নিয়োগ
দুদকের গঠন ও নিয়োগের ইতিহাসে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব লক্ষণীয়। ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর বিএনপি-জামায়াত সরকার দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত করে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করে। বিএনপি সরকার বিচারপতি সুলতানকে চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য কমিশনার নিয়োগ দেয়।
২০০৭ সালে জরুরি সরকার ক্ষমতায় এসে বিএনপি সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের সরিয়ে দিয়ে সাবেক সেনা প্রধান লে. জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধুরীকে চেয়ারম্যান এবং নতুন কমিশনার নিয়োগ দেয়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়ী হয়ে জরুরি সরকারের নিয়োগ দেওয়া কমিশন ভেঙে দেয়, তবে চেয়ারম্যান হাসান মশহুদ চৌধুরীকে পদত্যাগ করতে তিন মাস সময় দেওয়া হয়।
২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে নিয়োগ দেয়। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের ভবিষ্যৎ এখন সরকারি সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।
