রংপুরে তিন আসনের ভোট পুনঃগণনার দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ, জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘেরাও
রংপুরে ভোট পুনঃগণনার দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ

রংপুরে তিন আসনের ভোট পুনঃগণনার দাবিতে বিএনপির তীব্র বিক্ষোভ

রংপুরের তিনটি সংসদীয় আসনের ভোট আবার গণনার দাবিতে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বেলা ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা এই প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করেন।

প্রার্থীদের তীব্র অভিযোগ ও হুঁশিয়ারি

সমাবেশে বক্তব্য দেন রংপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী শামসুজ্জামান শামু, রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা এবং রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম। বক্তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগেও বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা পরিবর্তন করে জামায়াত-শিবিরের লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে

তারা আরও দাবি করেন, বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্রে মাদ্রাসা শিক্ষকসহ জামায়াত প্রার্থীদের পছন্দের ব্যক্তিদের ভোট কেন্দ্রে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রংপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল আহসান এবং পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন জামায়াত প্রার্থীদের জয়ী করতে নানান কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন বিএনপি নেতারা।

ফলাফল শিট পরিবর্তনের অভিযোগ

বিএনপি প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, তারপরও বিএনপির তিন প্রার্থী জয়ী হলেও ফলাফলের শিট পরিবর্তন করে জামায়াত প্রার্থীদের জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে ডিসি ও এসপিকে লিখিতভাবে জানানোর পরও তারা কোনও পদক্ষেপ নেননি বলে দাবি করেন তারা। বিএনপির তিন প্রার্থী ভোট আবার গণনার দাবি জানান এবং না হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।

পরে তিন বিএনপি প্রার্থী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে গিয়ে ভোট আবার গণনার দাবি জানান। তারা নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসককে দায়ী করেন। এ সময় তুমুল হইচই ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে।

প্রার্থীদের সরাসরি অভিযোগ ও জবাব

রংপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা জেলা প্রশাসক এনামুল আহসানকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি আমার পরিবার ও ছেলে মেয়েদের কাঁদিয়েছেন- আল্লাহ আপনার পরিবারকে কাঁদাবেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের পরের দিন সকাল থেকে লিখিত অভিযোগ নিয়ে কার্যালয়ে দেখা করার জন্য দুপুর ৩টা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরও জেলা প্রশাসক আসেননি।

রংপুর-৬ আসনের বিএনপির এমপি প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ডিসিকে উদ্দেশ করে বলেন, জামায়াত প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য নানান পরিকল্পনা করেছেন। পোলিং ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা পরিবর্তন করে মাদ্রাসা শিক্ষক যারা জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত তাদের ভোটের দুই দিন আগে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়াই প্রমাণ করে আপনি মূলহোতা।

রংপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী শামসুজ্জামান শামু একই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ব্যালট পেপারে প্রদত্ত ভোট জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে ২০টি করে বেশি গণনা করা হয়েছে। আর ধানের শীর্ষ মার্কার ২০টি করে কম গণনা করা হয়েছে। রংপুর-৩ আসনের সব কেন্দ্রে এসব করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

জেলা প্রশাসকের প্রতিক্রিয়া ও ফলাফল

তবে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ভোট গণনার আবেদন নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান। তিনি দাবি করেন, আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব তিনি পালন করেছি। কোন ইঞ্জিনিয়ারিং করার সুযোগ নেই তার

উল্লেখ্য, রংপুর-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী মাহবুবার রহমান বেলাল এক লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শামসুজ্জামান শামু পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের তৃতীয় হয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন মাত্র ৪৩ হাজার ৭৯০ ভোট।

রংপুর-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এক লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন এক লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের মাহবুবার রহমান তৃতীয় হয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট।

রংপুর-৬ আসনে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন এক লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন এক লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। এই আসনে জাপা প্রার্থী নুর আলম যাদু শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তার প্রাপ্ত ভোট মাত্র এক হাজার ২৮৭ ভোট।