এনসিপি নেত্রী ফারাহা এমদাদের পদত্যাগ: 'সংগঠক' পদে সম্মতি না নেওয়ায় ক্ষোভ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ফারাহা এমদাদ দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটিতে 'সংগঠক' পদে তার সম্মতি ও অবগতি ছাড়াই অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ তুলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট শেয়ার করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
পদত্যাগের কারণ ও ঘটনাক্রম
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটিতে ফারাহা এমদাদকে সংগঠক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে, এই বিষয়ে তার পূর্বানুমতি বা সম্মতি না নেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে একটি পদত্যাগপত্র শেয়ার করেন এবং ক্যাপশনে লেখেন, 'এনসিপির সঙ্গে আমার পথচলা এখানেই শেষ। আমি এনসিপির সঙ্গে যুক্ত থাকাকালে যদি কারও মনে কোনো কষ্ট দিয়ে থাকি তার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, সবাই ভালো থাকবেন।'
ফারাহা এমদাদ জাতীয় নাগরিক পার্টি ও নারীশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক বরাবর পাঠানো পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন, 'আমি বিনীতভাবে জানাচ্ছি যে, আমি আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটিতে 'সংগঠক' পদে আমাকে মনোনীত করা হয়েছে বলে অবগত হয়েছি। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, এই পদ বা কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আমার কোনো সম্মতি বা অবগত করা হয়নি।'
পদত্যাগপত্রের মূল বক্তব্য
তার পদত্যাগপত্রে আরও বলা হয়েছে:
- তার পূর্বানুমতি ও সম্মতি ব্যতিরেকে তাকে এমন একটি দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করা অন্যায় বলে তিনি মনে করেন।
- তিনি গত কয়েক মাস যাবত জাতীয় নাগরিক পার্টির কুমিল্লা মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কের দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করেছেন, যা তার কাছে পবিত্রতম দায়িত্ব ছিল।
- বর্তমানে তার মনে হচ্ছে, এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।
- তিনি জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক পদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি কুমিল্লা মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কের পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করছেন।
এই ঘটনার পর ফারাহা এমদাদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মোবাইলে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। কুমিল্লায় জাতীয় নাগরিক পার্টির কর্মকাণ্ডে এই পদত্যাগের প্রভাব নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ফারাহা এমদাদের পদত্যাগ রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এটি দলীয় শৃঙ্খলা ও সদস্যদের সম্মতি নেওয়ার প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে এই ঘটনার প্রভাব দেখা যাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



