হেফাজতে ইসলামের তীব্র প্রতিক্রিয়া: সংস্কৃতিমন্ত্রীর বক্তব্য 'সাম্প্রদায়িক উসকানি'
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ‘সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় উসকানিমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। পহেলা বৈশাখে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন ছিল না—মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনটি এই অভিযোগ তুলেছে।
বিবৃতিতে হেফাজতের অভিযোগ
বুধবার (১ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এই প্রতিক্রিয়া জানান। সংগঠনের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিবৃতিতে হেফাজতের মহাসচিব বলেন, ‘সংস্কৃতিমন্ত্রীর এ ধরণের বক্তব্য আসন্ন পহেলা বৈশাখে আনন্দ শোভাযাত্রার পরিবর্তে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আয়োজনের একটি কৌশলী ও সাম্প্রদায়িক প্রচেষ্টা।’
তিনি আরও বলেন, আনন্দ শোভাযাত্রা ও মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্ত্রীর দাবিটি ‘অজ্ঞতাপ্রসূত ও বিভ্রান্তিকর’। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছিলেন, ‘এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় চিরায়ত ধারায় পহেলা বৈশাখ পালিত হবে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আনন্দ শোভাযাত্রা নাম দেওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না।’
হেফাজতের ঐতিহাসিক দাবি
হেফাজতে ইসলামের বিবৃতিতে দাবি করা হয়, পহেলা বৈশাখ মূলত বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও, বিভিন্ন সময় এর নাম পরিবর্তন করে ভিন্নধর্মী নাম যুক্ত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের উদ্যোগে এটি শুরু হয়েছিল ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ হিসেবে। কিন্তু পরবর্তীকালে এর নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।’
হেফাজতের মহাসচিব আরও বলেন, ‘শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর সঙ্গে জড়িত ধর্মীয় ঐতিহ্য ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’কে পহেলা বৈশাখের মতো জাতীয় উৎসবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে হুঁশিয়ারি
বিবৃতিতে মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, ‘সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে নিতাই রায় চৌধুরীকে সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে আমাদের কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু আমাদের এই ঔদার্যের সুযোগ নিয়ে যারা হিন্দুত্ববাদী ও আধিপত্যবাদী সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালাতে চাইবে, তাদের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে।’
এই বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা পহেলা বৈশাখের ঐতিহ্যবাহী আনন্দ শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের কোনো প্রচেষ্টাকে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে। সংগঠনটির এই বক্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, যা আসন্ন পহেলা বৈশাখের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



