জামায়াত নেতার দাবি: গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সঠিকভাবে মানতে হলে জনগণের দেয়া গণভোটের রায়কেও মানতে হবে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
গোলটেবিল বৈঠকে উত্থাপিত বক্তব্য
বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং গণভোট বাস্তবায়নের প্রশ্নে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রভাব ও সম্ভাবনা শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। শিশির মনির তার বক্তব্যে সংবিধান ও গণভোটের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।
সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের প্রসঙ্গ
শিশির মনির বলেন, বিএনপির ৩১ দফাতেই সংবিধান সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সেখানে সংবিধান সংশোধনের কোনো উল্লেখ নেই। গণভোট নাকি সংবিধানে নেই—যা ঠিক নয়। জিয়াউর রহমানও সংবিধানে না থাকা অবস্থায় গণভোট করেছিলেন। তার মতে, গণভোট একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে স্বীকৃত হওয়া উচিত এবং সরকারের উচিত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ নিয়ে মতামত
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে যেসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, বিএনপি তা চাইছে না, এজন্য কিছু অধ্যাদেশ বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্যের দিকটি উল্লেখ করেন।
বিএনপির রাজনীতি নিয়ে সমালোচনা
এ বি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ তার বক্তব্যে বিএনপির রাজনীতি নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি হীনমন্যতায় ভরপুর। দলটি সনদ বাস্তবায়ন করবে না। আওয়ামী লীগ ১৭ বছরে যেই ফ্যাসিবাদ দেখিয়েছে, বিএনপি ১৭ দিনে তা অনুকরণ করছে। তারা এখনো বাহাত্তরের সংবিধান ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার আহ্বান
তিনি আরও যোগ করেন, বিএনপি আর এক্সক্লুসিভ রাজনীতি করতে পারছে না। আওয়ামী লীগ ও মাইনরিটিদের ভোটে সরকার গঠিত হয়েছে। ৫৫ বছর পর দেশকে স্থিতিশীল অবস্থায় দেখতে চাইলে প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে এবং অন্য সমস্যা সমাধানের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এই মন্তব্যে তিনি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের গুরুত্বের উপর জোর দেন।
এই গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নেতারা নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি এবং গণভোট বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। শিশির মনিরের বক্তব্যে সরকারের সক্রিয় ভূমিকার দাবি উল্লেখযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



