গণভোট উপেক্ষা করলে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে: আ স ম আবদুর রব
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর সভাপতি আ স ম আবদুর রব সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের রায় উপেক্ষা করলে দেশে বিপজ্জনক পরিস্থিতির জন্ম হতে পারে। বুধবার (১ এপ্রিল) গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক অঙ্গীকার
আ স ম আবদুর রব তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, রক্তাক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে গণভোটের যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা ছিল সুনির্দিষ্ট এবং সর্বদলীয়ভাবে সমর্থিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান কেবলমাত্র একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা নয়; বরং এটি ছিল জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতার উৎস পুনর্নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক প্রয়াস।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, "এটি কোনো সাধারণ কৌশলগত ঘটনা ছিল না; বরং ছিল ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রতি একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি।" আজ যদি সেই অবস্থান থেকে বিচ্যুতি দেখা যায়, তবে তা কেবল মতপার্থক্য নয়, বরং জনগণের সঙ্গে সম্পাদিত সামাজিক চুক্তির চরম অবমাননা হিসেবে বিবেচিত হবে।
জনগণের সম্মতি ছাড়া বৈধতা নেই
জেএসডি নেতা তার বক্তব্যে আরও তুলে ধরেন যে, নতুন ধারার রাজনীতির দৃষ্টিভঙ্গিতে রাষ্ট্রের বৈধতা কেবলমাত্র জনগণের সরাসরি সম্মতি ও অংশগ্রহণ থেকেই উদ্ভূত হতে পারে। তিনি বলেন, "জাতীয় সনদ কেবল একটি নীতিপত্র নয়—এটি শ্রমজীবী, কর্মজীবী ও পেশাজীবী জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।"
তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ঐতিহাসিক বাস্তবতায় জাতীয় সনদ হল গণ-আকাঙ্ক্ষার দর্পণ। এর চূড়ান্ত ও নৈতিক বৈধতা কেবল জনগণের সরাসরি রায় থেকেই আসতে পারে, অন্য কোনো প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কখনোই এই জনসম্মতির বিকল্প হতে পারে না।
গণভোট এড়ানো হলে পরিণতি ভয়াবহ
আ স ম আবদুর রব সতর্ক করে দিয়ে বলেন:
- গণভোটকে পাশ কাটিয়ে বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় সনদ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলে তা অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের ধারণার পরিপন্থী হবে।
- এটি অভ্যন্তরীণ পরাধীনতার ধারাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।
- ক্ষমতাসীন সরকার যদি গণভোটের রায়ের বাধ্যবাধকতাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বা ভিন্ন কোনো অজুহাতে তা স্থগিত করে, তবে তা অনিবার্যভাবে গভীর 'জন-আস্থার সংকট' তৈরি করবে।
তিনি আরও যোগ করেন, "জাতির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে—অদলীয় সমাজশক্তির সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া যেমন ফ্যাসিবাদ উৎখাত সম্ভব নয়, তেমনি একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার টেকসই ভিত্তিও গড়ে ওঠে না।"
রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ
জেএসডি নেতা তার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তুলে ধরেন যে, আজকের প্রশ্ন কেবল গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মূল প্রশ্ন হলো—রাষ্ট্র কি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে, নাকি আবারও একটি সীমাবদ্ধ দলীয় কাঠামোর ভেতরে আবদ্ধ হয়ে পড়বে?
তিনি দৃঢ়ভাবে মত প্রকাশ করেন যে, ঘোষিত অঙ্গীকার রক্ষা করাই এখন সরকারের রাজনৈতিক সততার একমাত্র মানদণ্ড। এটি কেবল কোনো দলীয় অবস্থান নয়; বরং গণতন্ত্র, জনমত ও জুলাই বিপ্লবের চেতনার প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশ্ন।
তাই জনমত উপেক্ষা করে কোনো হঠকারী পথে না গিয়ে জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে—জনমতকে পাশ কাটিয়ে স্থিতিশীলতা অর্জনের চেষ্টা সর্বদা আত্মঘাতী প্রমাণিত হয়েছে।



