চাঁদপুর আদালতে তিন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো সাবেক মন্ত্রী দীপু মনিকে
চাঁদপুর আদালতে তিন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো দীপু মনিকে

চাঁদপুর আদালতে তিনটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো সাবেক মন্ত্রী দীপু মনিকে

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনায় করা তিনটি মামলায় চাঁদপুর আদালতে সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে চাঁদপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল মান্নানের আদালতে ভার্চুয়ালি হাজির করা হয় এই সাবেক মন্ত্রীকে, যিনি তিন মামলার আসামি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।

মামলার বিস্তারিত বিবরণ ও তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বক্তব্য

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জিআর ৫৭৯, জিআর ৫৭১ এবং জিআর ৫৮৫ নম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা আসামিকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে উপস্থিত ছিলেন। জিআর ৫৭৯ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক মিন্টু দত্ত, জিআর ৫৭১ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাদির শাহ এবং জিআর ৫৮৫ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নুরে আলম এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।

তদন্তকারী এসআই নাদির শাহ বলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের বাসায় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই এবং ৪ আগস্ট দুইবার ভাঙচুর, আগুন ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় করা মামলায় দীপু মনিকে ১নং আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে, এবং তার নির্দেশে অন্য আসামিরা এই ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশ পরিদর্শক মিন্টু দত্ত উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দীপু মনির ইন্ধনে অন্য আসামিরা ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায়, এবং এই মামলায়ও তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

এছাড়া, এসআই নুরে আলম জানান, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দীপু মনির নির্দেশে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সড়ক ভবনের গাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতের কার্যক্রম ও আসামির অবস্থান

তিন মামলায় আসামি দীপু মনির পক্ষে আদালতে কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। দীপু মনি নিজেই তার মামলার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দেন এবং তিনি জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেন। আদালত থেকে জানানো হয়, এই তিনটি ঘটনা চাঁদপুরে সংঘটিত হয়েছে, এবং দীপু মনিকে এজাহারে নির্দেশ ও ইন্ধনদাতা হিসেবে দেখানো হয়েছে।

তদন্তের স্বার্থে বিচারক তিনটি মামলায় আসামির শোন অ্যারেস্ট মঞ্জুর করেন। বর্তমানে দীপু মনি মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে আছেন। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হিসেবে অ্যাডভোকেট এ জেড এম রফিকুল হাসান রিপন, স্পেশাল পিপি শিরিন সুলতানা মুক্তা, সিনিয়র আইনজীবী ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হারুনুর রশিদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম এবং সম্পাদক জাকির হোসেন ফয়সালসহ বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।