পাচারকৃত অর্থ দিয়ে ২৫টি পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব: সারজিস আলমের অভিযোগ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাণিজ্যের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, শেখ হাসিনার শাসনামলে গত ১০ বছরে দেশ থেকে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে, যা দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর জন্য একটি বিরাট ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে।
ফেসবুক পোস্টে উল্লেখিত তথ্য
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সারজিস আলম এই তথ্য তুলে ধরেন। তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ বছরে বাণিজ্যের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে মোট ৬ হাজার ৮৩০ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ৮ লাখ কোটি টাকা, যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গভীর উদ্বেগের বিষয়।
পদ্মা সেতুর উদাহরণ টেনে বিশালতা বোঝানো
পাচার হওয়া অর্থের বিশালতা বোঝাতে তিনি দেশের মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতুর উদাহরণ টেনে আনেন। সারজিস আলম বলেন, ‘পাচার হওয়া এই বিশাল অংকের অর্থ দিয়ে বাংলাদেশে অন্তত ২৫টি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব ছিল।’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি অর্থ পাচারের ভয়াবহ পরিণতি এবং দেশের উন্নয়ন সম্ভাবনার উপর এর নেতিবাচক প্রভাবকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
সাবেক সরকারের কড়া সমালোচনা
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের কড়া সমালোচনা করে তিনি এই লুটপাট ও অর্থ পাচারকে বিগত আমলের শাসনের একটি নিয়মিত চিত্র হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি তার পোস্টে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘এভাবেই চলেছে শেখ হাসিনার লুটপাটের আমল!’ এই বক্তব্যে তিনি সরকারের আমলে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতির প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সারজিস আলমের এই অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে এবং অর্থ পাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জোরদার করছে। তার মতে, এই বিশাল অংকের টাকা দেশের উন্নয়ন কাজে ব্যয় হলে বাংলাদেশের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি ঘটতে পারত, যা এখন একটি হারানো সুযোগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।



