জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বাংলাদেশে গণতন্ত্র মুক্তি পায়নি বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজশাহী টিটিসি মাঠে এনসিপির বিভাগীয় ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন করতে আহ্বান জানান।
গণতন্ত্রের মুক্তির দাবি
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র মুক্তি পায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের পূর্বশর্ত হলো একটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, ইলেকশনে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে, ভোট ডাকাতি হয়েছে এবং কেন্দ্র দখল হয়েছে। তিনি বলেন, একটি সিস্টেমেটিক প্রহসনের মাধ্যমে জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে দিল্লি ও লন্ডনে চুক্তি অনুযায়ী সরকার গঠন করা হয়েছে।
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জোর দিয়ে বলেন, লড়াইটা আমাদের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমরা বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা চাই না। তিনি তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে আব্বাস উদ্দীন ও আফরোজা আব্বাসের নাম উল্লেখ করেন এবং তাদের ভোট ডাকাতি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগের কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তা
ইফতারের আগে এই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক।
সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা
এনসিপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাইন উদ্দিন, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মাহিন সরকার, তাহসিন রিয়াজ, সাইফ মুস্তাফিজ, যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম এবং নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন।
অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা
এই ইফতার অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার এনসিপি, যুবশক্তি ও নারীশক্তির প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। এটি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক সমাবেশ হিসেবে উল্লেখযোগ্য, যা স্থানীয় রাজনীতিতে এনসিপির প্রভাবকে তুলে ধরে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা করতে পারে, বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান আলোচনায়।
