দুই দশকের অপেক্ষার অবসান: বিএনপির নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার
দীর্ঘ দুই যুগ পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, বিকেল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সাড়া
এই রাজকীয় আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা অংশ নিতে চলেছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১ হাজার ২০০ জন আমন্ত্রিত অতিথির মধ্যে ভারত, পাকিস্তান ও ভুটানসহ দক্ষিণ এশিয়ার নেতৃবৃন্দ সরাসরি উপস্থিত থাকবেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন।
এছাড়াও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ খলিল এবং শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসাও ঢাকায় এই অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, শেষ মুহূর্তে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু নিজেও আসতে পারেন। যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রার উপস্থিতি অনুষ্ঠানটির বৈশ্বিক গুরুত্বকে আরও বৃদ্ধি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচনী বিজয় ও সংসদীয় প্রক্রিয়া
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে এবং জোটগতভাবে ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। মঙ্গলবার দিনের শুরুতে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বিএনপি তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবে, যিনি পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। গতকাল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের স্থান ও আমন্ত্রিত ব্যক্তিবর্গ
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণের এই স্থানটি বিএনপির পক্ষ থেকেই নির্বাচন করা হয়েছে। প্রথা অনুযায়ী এই অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিবৃন্দ, জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, বিশিষ্ট আইনজীবী, সাংবাদিক এবং কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তবে পূর্বনির্ধারিত ‘ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’ থাকায় তার পরিবর্তে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ও পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার সূচনা
এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার সূচনা হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দীর্ঘ সময় পর বিএনপির ক্ষমতায় ফেরা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
