খুলনায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মাল্যদান ও ভাঙচুর: বিএনপির ক্ষোভ, নেতাদের বক্তব্য
খুলনায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মাল্যদান ও ভাঙচুর

খুলনায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মাল্যদান ও ভাঙচুর: বিএনপির তীব্র প্রতিক্রিয়া

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন পর খুলনায় একটি ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। রোববার বিকেলে খুলনা নগরের লোয়ার যশোর রোডের শঙ্খ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে একদল নেতা-কর্মীর উপস্থিতি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিতে ফুলের মালা দানের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে।

কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ও মাল্যদান

গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে পরিত্যক্ত থাকা এই কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো নেতা-কর্মীদের প্রবেশ এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫-৩০ জন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, এটি তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের একটি স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ ছিল এবং কোনো উল্লেখযোগ্য নেতা উপস্থিত ছিলেন না।

বিএনপির বিবৃতি ও হুঁশিয়ারি

রোববার রাতে খুলনা মহানগর বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে উসকানিমূলক ও সুপরিকল্পিত চক্রান্ত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, “নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল এবং নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।” বিবৃতিতে জড়িতদের অবিলম্বে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে, অন্যথায় নগরবাসীকে নিয়ে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তী ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

মাল্যদানের ঘটনার পর সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। তারা কাঠের দরজা ও কাগজপত্রে আগুন জ্বালিয়ে দেয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে আরও উত্তেজনা ছড়ায়। উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর খুলনা মহানগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলোতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। এর এক দিন আগে, ৪ আগস্ট মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিলেন, যার পর থেকে কার্যালয়টি পরিত্যক্ত ছিল।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনা খুলনার রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এটি নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দলীয় উত্তেজনার একটি প্রকাশ। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া না এলেও, বিএনপির বিবৃতি রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে আরও তীব্র করতে পারে। খুলনা বিভাগে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ায় এই ঘটনাটির তাৎপর্য আরও গভীর।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ কামনা করছেন এবং কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপের আশা করছেন। পুলিশ ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।