খুলনা নগরের লবণচরা থানা এলাকা থেকে পারভেজ গাজী (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তিনি মহানগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত আশিক গ্রুপের একজন শীর্ষ শুটার। আজ মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে লবণচরা থানা-পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
গোপন সংবাদে অভিযান
খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লবণচরা থানার মোক্তার হোসেন সড়ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে লবণচরাসহ বিভিন্ন থানায় অন্তত ১০টি মামলা আছে। এসব মামলার মধ্যে মাদকদ্রব্য, হত্যাচেষ্টা, গুরুতর জখম ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আছে।
পুলিশের বক্তব্য
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, পারভেজ খুলনা মহানগরের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একজন বলে পুলিশের নথিতে উল্লেখ আছে। তাঁর বিরুদ্ধে লবণচরা ও আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, হত্যাকাণ্ড, ভাড়াটে হামলাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আছে। এলাকায় সংঘটিত কয়েকটি গুলির ঘটনার তদন্তেও তাঁর নাম উঠে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিএনপি কার্যালয়ে গুলির মামলায় আসামি
ওসি আরও বলেন, গত মে মাসে পুটিমারী বাজারে জলমা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে দুই যুবদল কর্মীকে গুলির ঘটনায় করা মামলার আসামিদের একজন পারভেজ। এ ছাড়া ১২ জুন লবণচরা থানা এলাকায় এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগও তদন্তাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার পারভেজকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তালিকা
খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় কয়েকটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নাম বারবার আলোচনায় এসেছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে আছে বি-কোম্পানি, পলাশ গ্রুপ, হুমা বাহিনী, আরমান গ্রুপ, শাকিল গ্রুপ, নাসিম গ্রুপ, আশিক বাহিনী, নূর আজিম গ্রুপ ও টেংকি শাওন গ্রুপ। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, দীর্ঘদিনের দুর্বল নজরদারির সুযোগে এসব গোষ্ঠী বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছে। এতে নগরবাসীর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, সাম্প্রতিক বিশেষ অভিযান ও নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।



