কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট নিরসনে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট নিরসনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেশনজট নিরসন ও একাডেমিক কার্যক্রমের গতি ফিরিয়ে আনার দাবিতে আজ মঙ্গলবার বিক্ষোভ করেছেন। বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ ভবনের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বিভাগের বিভিন্ন কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাসুদা কামাল ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিলে দুপুরের দিকে তালা খুলে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।

সেশনজটের কারণে শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তা

শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় তাঁরা তীব্র সেশনজটে পড়েছেন। বিশেষ করে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা প্রায় আট মাস পিছিয়ে যাওয়ায় শিক্ষাজীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও সেশনজট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে তাঁরা আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি

শিক্ষার্থীরা আজ ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হলো:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব কোর্সের ইনকোর্স পরীক্ষার ফল প্রকাশ;
  • ছয় মাসের মধ্যে বাকি দুই সেমিস্টারের কার্যক্রম সম্পন্ন;
  • ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাকি দুই সেমিস্টারের বিস্তারিত রোডম্যাপ প্রকাশ;
  • পরীক্ষা শেষ হওয়ার আট সপ্তাহের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ;
  • শিক্ষকসংকট দেখা দিলে গেস্ট টিচার নিয়োগের মাধ্যমে কোর্স সম্পন্ন;
  • এসব বিষয়ে প্রশাসনের লিখিত প্রতিশ্রুতি প্রদান।

প্রশাসনের আশ্বাস ও সভা

আন্দোলনের এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাসুদা কামাল ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো শোনেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার মৌখিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

উপ-উপাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, 'শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে একাডেমিক কার্যক্রম বিলম্বের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

এ আন্দোলনের পর আজ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এতে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, 'শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক বলে মনে হয়েছে। তাই তাঁদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জটিলতা দূর হবে।'

ভবিষ্যৎ কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

এ বিষয়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে তাঁরা আবারও কর্মসূচি দেওয়ার কথা বিবেচনা করবেন।