জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ইমাম হাসান হত্যা মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান ভূঁইয়া (তাইম) হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ রোববার এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২-এর অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মামলার বিস্তারিত তথ্য
এই মামলায় মোট ১১ জন আসামি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তীসহ ৯ জন পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। অন্যদিকে, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান এবং সাবেক এসআই মো. শাহদাত আলী গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন।
ঘটনার পটভূমি
রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের উপপরিদর্শক মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে ইমাম হাসান ভূঁইয়া ছিলেন নারায়ণগঞ্জের সরকারি আদমজী নগর এমডব্লিউ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই পুলিশের গুলিতে তিনি যাত্রাবাড়ীর কাজলা পদচারী-সেতুর কাছে নিহত হন। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পুলিশ গুলি করার সময় এক বন্ধু ইমাম হাসান ভূঁইয়া তাইমেকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, যা ঘটনার তীব্রতা ও মানবিক দিক তুলে ধরে।
আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম
আগামী ২৯ মার্চ এই মামলায় সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেবে।
সামাজিক ও আইনি প্রভাব
এই মামলাটি বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হতে পারে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনরত পরিবার ও সমাজের জন্য আশার আলো হিসেবে দেখা হচ্ছে।
