সুনামগঞ্জে লন্ডন প্রবাসী হত্যা: ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে গ্রেপ্তার তিন
সুনামগঞ্জে লন্ডন প্রবাসী হত্যা: গ্রেপ্তার তিন

সুনামগঞ্জে লন্ডন প্রবাসী হত্যা: ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে গ্রেপ্তার তিন

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের বাসিন্দা ও লন্ডন প্রবাসী বোরহান উদ্দিন শফিক হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও জানানো হয়নি।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরিচয়

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া শাখা থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:

  • সাব্বির আহমেদ (২১)
  • সৈয়দ মেহরাজ উজ সামাদ ওরফে শোভন (২০)
  • আসামি তাহিরুল হক (২০)

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার মামলার প্রধান আসামি জকিগঞ্জের বাসিন্দা সাব্বির আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার দুই নম্বর আসামি সৈয়দ মেহরাজ উজ সামাদ ওরফে শোভনকে নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একইদিন অপর আসামি তাহিরুল হককে তার শ্বশুর বাড়ি লালাগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মোটরসাইকেল উদ্ধার ও হত্যার পটভূমি

গ্রেপ্তারের সময় তাহিরুলের কাছ থেকে নিহত শফিকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এর আগে, গত ২৮ জানুয়ারি দেশে ফিরেন জগন্নাথপুর পৌরশহরের হবিবপুর আশিঘর এলাকার মৃত সমসু মিয়ার ছেলে বোরহান উদ্দিন শফিক। এরপর তিনি হঠাৎ নিখোঁজ হন। নিখোঁজের কয়েকদিন পর ৩ ফেব্রুয়ারি জকিগঞ্জের সুলতানপুর ইউনিয়নের মাসেরচক হাওর বিলপাড় থেকে লন্ডন প্রবাসী শফিকের আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার দুদিন পর এই ঘটনায় জকিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মামলাটি পুলিশের জেলা গোয়েন্দা শাখায় হস্তান্তর করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, মরদেহটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আগুনে পোড়ানোর স্পষ্ট চিহ্ন এবং গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় ছিল। মরদেহের পাশে একটি লবণের প্যাকেটও পাওয়া যায়, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।

পুলিশের ধারণা ও তদন্তের অগ্রগতি

পুলিশের ধারণা, হত্যার পর পরিচয় গোপন ও আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে মরদেহে আগুন দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এই ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যার মূল কারণ ও অন্যান্য জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই হত্যাকাণ্ডে শোক প্রকাশ করেছেন এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের তৎপরতা ও গ্রেপ্তারকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, তবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের জন্য অপেক্ষা করছেন। এই ঘটনা সুনামগঞ্জ ও আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।