দেশের প্রান্তিক খামারিরা প্রতি ডিম উৎপাদনে গড়ে ৪ টাকা লোকসান গুনছেন, যা মাসে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতির সমতুল্য। বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে ডিমের উৎপাদন খরচ প্রতি পিস ১২ টাকা, কিন্তু বাজারমূল্য ৮ টাকার নিচে নেমে গেছে।
উৎপাদন খরচ ও বাজারমূল্যের ব্যবধান
গত এক মাসে ডিমের পাইকারি দাম ৮ টাকা থেকে কমে ৭ টাকা ৫০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে খামারিদের উৎপাদন খরচ ১২ টাকা। এই ব্যবধানের কারণে ছোট ও মাঝারি খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মিজানুর রহমান বলেন, 'প্রান্তিক খামারিরা দিন দিন ঋণের বোঝায় ডুবে যাচ্ছেন। অনেকে খামার বন্ধ করার চিন্তা করছেন।'
সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
খামারিরা ডিমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন। তারা বলছেন, বাজারে সিন্ডিকেটের কারণে দাম কৃত্রিমভাবে কম রাখা হচ্ছে। পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যাতে ডিমের মূল্য নির্ধারণে সুপারিশ চাওয়া হয়েছে।
ভোক্তাদের ওপর প্রভাব
এই সংকটের কারণে ভোক্তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ডিমের উৎপাদন কমে গেলে বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে, যা দাম আরও বাড়িয়ে দেবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই পরিস্থিতি প্রোটিনের চাহিদা পূরণে বড় সমস্যা তৈরি করবে।



